ঢাকা ০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৫৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 10

লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী একটি রাবারের নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)।

আইওএম জানায়, নৌকাটিতে মোট ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাত্র দুজন নারী জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। তারা দুজনই নাইজেরিয়ার নাগরিক। শুক্রবার লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে এবং পরে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থী ছিলেন। উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল-জাওইয়া থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে নৌকাটি উল্টে যায় এবং ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বেঁচে যাওয়া অভিবাসীরা আইওএমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নৌকাটি ত্রিপোলির পশ্চিমাঞ্চল থেকে রওনা দেয়। কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরের দিকে জুওয়ারা এলাকার উত্তরে এটি ডুবে যায়।

আইওএম আরও জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত লিবিয়া উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। শুধু জানুয়ারি মাসেই মধ্য-ভূমধ্যসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭৫ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই নারীর একজন স্বামীকে হারিয়েছেন, আর অন্যজন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তার দুই সন্তান মারা গেছে।

২০১১ সালে লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর দেশটি ইউরোপে পৌঁছাতে চাওয়া সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসীদের জন্য অন্যতম প্রধান প্রস্থানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ পথের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে আইওএম।

শেয়ার করুন

লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা দুর্ঘটনা, প্রাণহানি ৫৩

আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লিবিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী একটি রাবারের নৌকা ডুবে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)।

আইওএম জানায়, নৌকাটিতে মোট ৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর মাত্র দুজন নারী জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। তারা দুজনই নাইজেরিয়ার নাগরিক। শুক্রবার লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্ধার করে এবং পরে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থী ছিলেন। উত্তর-পশ্চিম লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল-জাওইয়া থেকে যাত্রা শুরুর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর নৌকাটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। একপর্যায়ে নৌকাটি উল্টে যায় এবং ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বেঁচে যাওয়া অভিবাসীরা আইওএমকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নৌকাটি ত্রিপোলির পশ্চিমাঞ্চল থেকে রওনা দেয়। কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরের দিকে জুওয়ারা এলাকার উত্তরে এটি ডুবে যায়।

আইওএম আরও জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত লিবিয়া উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায় ৫০০ অভিবাসী নিহত অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। শুধু জানুয়ারি মাসেই মধ্য-ভূমধ্যসাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে একাধিক নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৩৭৫ জনের মৃত্যু বা নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংস্থাটি জানায়, উদ্ধার হওয়া দুই নারীর একজন স্বামীকে হারিয়েছেন, আর অন্যজন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তার দুই সন্তান মারা গেছে।

২০১১ সালে লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর দেশটি ইউরোপে পৌঁছাতে চাওয়া সাব-সাহারান আফ্রিকার অভিবাসীদের জন্য অন্যতম প্রধান প্রস্থানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ পথের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় প্রাণহানির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে আইওএম।