ঢাকা ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজ প্রভাবশালীদের প্রকাশ্যে শাস্তি: চরমোনাই পীর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের হুমকিতেও ভীত নয় ইরান: আরাগচি জামায়াতের মিছিলে যাওয়ায় শিশু সাজ্জাদকে লাথির অভিযোগ, বিএনপি কর্মী গ্রেপ্তার ফজলুর রহমান বিষ খাবেন—প্রমাণে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন: শিবির সভাপতি দুর্নীতির পুরনো চক্র ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে: মামুনুল হক জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন: নাহিদ ইসলাম সমাবেশে শিশির মনিরকে স্বর্ণের দাঁড়িপাল্লা উপহার নির্বাচনের আগের দিন জানানো হবে প্রধান উপদেষ্টার ভোটদানের স্থান-সময় বিএনপিতে যোগ দেওয়া আলোচিত যুবলীগ নেতা অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ডাকা বিক্ষোভে হাজির পাটওয়ারীই

আহত শিক্ষার্থীরা পড়েছে অনিরাপদ অবস্থায়

বাংলা ভিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 8

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও সহায়তায় প্রশাসনের গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম বলেন, “আমি এখন ঠিকভাবে হাঁটতে পারি না, বাম দিকটি প্রায় অচল। প্যারালাইসিস রোগীর মতোই আমার বর্তমান অবস্থা।”

গত ৩১ আগস্ট স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হন সায়েম। তিনি দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টে ছিলেন, তবে এখন জীবন-যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় সংগ্রাম করছেন। গুরুতর আহত নাঈমুল ইসলাম ও মামুন মিয়ার চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।

সংঘর্ষে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আহত হলেও, সায়েম, নাঈমুল ও মামুন সবচেয়ে গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন। সায়েম আইসিইউতে দীর্ঘদিন ছিলেন, মামুনের মাথার খুলি ফ্রিজে রেখে অপারেশন করা হয়েছে, আর নাঈমুল ভাসকুলার ইনজুরিতে আক্রান্ত হন।

আহতরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রশাসন চিকিৎসা ও থাকার সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন তা বাস্তবায়িত হয়নি। সায়েম বলেন, “প্রাথমিকভাবে পাশে থাকলেও এখন আর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতাল থেকে রিলিজের পর আমাদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অনুরোধ করলেও প্রশাসনের কেউ ফোন ধরেননি।”

নাঈমুল জানান, তার চিকিৎসায় খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। প্রশাসন মাত্র দেড় লাখ টাকা দিয়েছে, বাকি খরচের জন্য এখনো তাঁরা ঘুরছেন।

চবি কর্তৃপক্ষ সংঘর্ষের পর ১০ তলা ভবন, মডেল থানা, পুলিশ বক্স ও হটলাইন চালু এবং জড়িতদের বিচারসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ৫ মাস পার হলেও কোনো বাস্তব পরিবর্তন দেখা যায়নি।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, হটলাইন চালু আছে। কিন্তু হটলাইন কমিটির শিক্ষক মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন ফারুকী বলছেন, জনবল সংকটের কারণে এটি কার্যকর নয়।

মামলার গতিপথ নিয়েও সংশয় আছে। অজ্ঞাতনামা ১ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তবে গ্রেপ্তার ৮ জনের মধ্যে ৭ জন জামিনে মুক্ত। প্রশাসনের উদাসীনতায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ঘুরছে।

আহত শিক্ষার্থীরা দ্রুত চিকিৎসা, খরচের পূর্ণ দায়িত্ব এবং প্রতিশ্রুত শাস্তি চাইছেন। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় প্রশাসনের ধীরগতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

শেয়ার করুন

আহত শিক্ষার্থীরা পড়েছে অনিরাপদ অবস্থায়

আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও সহায়তায় প্রশাসনের গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সায়েম বলেন, “আমি এখন ঠিকভাবে হাঁটতে পারি না, বাম দিকটি প্রায় অচল। প্যারালাইসিস রোগীর মতোই আমার বর্তমান অবস্থা।”

গত ৩১ আগস্ট স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হন সায়েম। তিনি দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টে ছিলেন, তবে এখন জীবন-যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতায় সংগ্রাম করছেন। গুরুতর আহত নাঈমুল ইসলাম ও মামুন মিয়ার চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত।

সংঘর্ষে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী আহত হলেও, সায়েম, নাঈমুল ও মামুন সবচেয়ে গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন। সায়েম আইসিইউতে দীর্ঘদিন ছিলেন, মামুনের মাথার খুলি ফ্রিজে রেখে অপারেশন করা হয়েছে, আর নাঈমুল ভাসকুলার ইনজুরিতে আক্রান্ত হন।

আহতরা অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রশাসন চিকিৎসা ও থাকার সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও এখন তা বাস্তবায়িত হয়নি। সায়েম বলেন, “প্রাথমিকভাবে পাশে থাকলেও এখন আর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। হাসপাতাল থেকে রিলিজের পর আমাদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অনুরোধ করলেও প্রশাসনের কেউ ফোন ধরেননি।”

নাঈমুল জানান, তার চিকিৎসায় খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। প্রশাসন মাত্র দেড় লাখ টাকা দিয়েছে, বাকি খরচের জন্য এখনো তাঁরা ঘুরছেন।

চবি কর্তৃপক্ষ সংঘর্ষের পর ১০ তলা ভবন, মডেল থানা, পুলিশ বক্স ও হটলাইন চালু এবং জড়িতদের বিচারসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ৫ মাস পার হলেও কোনো বাস্তব পরিবর্তন দেখা যায়নি।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, হটলাইন চালু আছে। কিন্তু হটলাইন কমিটির শিক্ষক মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন ফারুকী বলছেন, জনবল সংকটের কারণে এটি কার্যকর নয়।

মামলার গতিপথ নিয়েও সংশয় আছে। অজ্ঞাতনামা ১ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তবে গ্রেপ্তার ৮ জনের মধ্যে ৭ জন জামিনে মুক্ত। প্রশাসনের উদাসীনতায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে ঘুরছে।

আহত শিক্ষার্থীরা দ্রুত চিকিৎসা, খরচের পূর্ণ দায়িত্ব এবং প্রতিশ্রুত শাস্তি চাইছেন। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় প্রশাসনের ধীরগতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।