বাংলাদেশে অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন গড়ে তুলতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ চেয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন। [BANGVIEWS-POST:4570]বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী জানান, কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের জন্য বহুতল আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পুরো অর্থ একসঙ্গে বিনিয়োগ সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চীন প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি। বৈঠকে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে তার চীন সফরের সময় এ খাতে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া দাশেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন শোধনাগারকে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করতে প্রয়োজনীয় পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, টেকসই পানি সরবরাহ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং শিক্ষা কারিকুলামে চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। [BANGVIEWS-POST:4569]স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার। পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর উন্নয়ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারে। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় নগর অবকাঠামো, সবুজ জ্বালানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে আরও কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তিনি।