ট্রাম্পের ফোনের পর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, তদন্তের মুখে ফিফা
লাল কার্ড দেখার পরও মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে বড় বিতর্কে পড়েছে ফিফা।এই সিদ্ধান্তের পেছনে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তদন্ত শুরুর চেষ্টা চলছে। কয়েক ডজন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ইতোমধ্যে তদন্তের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করছেন।[BANGVIEWS-POST:1463]১ জুলাই বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচে তার খেলার কথা ছিল না। কিন্তু বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে নাটকীয়ভাবে তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা।বিতর্ক আরও বাড়ে, কারণ ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারের পক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা প্রধান ইনফান্তিনোকে ফোন করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, লারা ওল্টার্স ও নিলস ফুগলসাং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, টুর্নামেন্টের মাঝপথে লাল কার্ডের নিয়ম বদলে ফেলা লজ্জাজনক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।[BANGVIEWS-POST:1458]তাদের অভিযোগ, ফিফা ও ইনফান্তিনো ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কাছে মাথা নত করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে ফিফা এথিকস কমিটির মাধ্যমে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।আইনপ্রণেতাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপেই বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে ট্রাম্পকে ফিফা শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মতো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঘটনাও তদন্তের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন তারা।তবে ফিফার দাবি, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে তাদের ডিসিপ্লিনারি কমিটির। সংস্থাটি রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।ইউরোপীয় আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩৫ জন এমপি এই তদন্তের দাবিতে চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাদের বক্তব্য, ফুটবলের সৌন্দর্য নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নিয়মে। কিন্তু রাজনৈতিক চাপের মুখে কে খেলবে আর কে খেলবে না তা নির্ধারণ করা হলে খেলাধুলার সততা প্রশ্নের মুখে পড়ে।এদিকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি, আইওসি-তেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে লন্ডনভিত্তিক ক্রীড়া ও মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার।সংস্থাটি জানিয়েছে, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বারবার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করছেন বলে তারা আইওসি এথিকস কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেবে।আইওসি প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কভেন্ট্রি জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেছেন, বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এবং ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়টিও তারা পর্যবেক্ষণে রাখছেন।
সব মিলিয়ে বালোগানকে খেলানোর সিদ্ধান্ত এখন শুধু মাঠের ঘটনা নয়, বরং ফিফার নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় বিতর্কে রূপ নিয়েছে।