নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ-সেবা সহজ করার উদ্যোগ সরকারের
নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব জোরদারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।সোমবার (৫ অক্টোবর) শিল্প মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সঙ্গীতা আহমেদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বৈঠকে অংশ নেয়।বৈঠকে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও কমপ্লায়েন্স, প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা, জেলা পর্যায়ে সমন্বয় এবং উদ্যোক্তাদের তথ্যভাণ্ডার তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে নারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে যেতে হবে না। ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি) এবং রপ্তানি নিবন্ধন সনদের (ইআরসি) মতো প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে সংগ্রহ করা যাবে।দেশের যেকোনো স্থান থেকে, এমনকি বিদেশে অবস্থান করেও উদ্যোক্তারা আবেদন ও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে এসব সেবা নিতে পারবেন। এতে ব্যবসা শুরুর ও পরিচালনার প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় ও ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।এসএমই খাতে অর্থায়নের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, এ খাতে ঋণের পরিসর ৩০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই ঋণ ৬ শতাংশ সুদে বিতরণ করা হবে। নারী উদ্যোক্তারা যাতে এ অর্থায়নের সর্বোচ্চ সুবিধা পান, সে জন্য এসএমই বোর্ড পুনর্গঠন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানান তিনি।বৈঠকে বিডব্লিউসিসিআই প্রতিনিধিরা নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের জটিলতা এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বয়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।তারা জানান, দেশে কোন খাতে ও কোন পর্যায়ে কতজন নারী উদ্যোক্তা কাজ করছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এ কারণে নারী উদ্যোক্তাদের প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।এ সমস্যা সমাধানে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেয় বিডব্লিউসিসিআই। জেলা পর্যায়ের উইমেন চেম্বারগুলোকে উদ্যোক্তাদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় গড়ে ওঠা বিকল্প সেবা মঞ্চগুলোর প্রশংসা করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাদের ব্যবসায়িক সেবা ও অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথাও জানান তিনি।বৈঠকে বিডব্লিউসিসিআইয়ের ট্রেজারার শাহানা জাফরীন, রিদমা খান ও উলফাত জাহান মুনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।