ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শান্তিচুক্তি ও হরমুজে নৌচলাচল ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কারিগরি আলোচনা

স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে কাতারের রাজধানী দোহায় কারিগরি আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আলোচনায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিয়ম, ইরানের নিয়ন্ত্রণ দাবি এবং আটকে থাকা অর্থ ছাড়ের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার দোহায় এ আলোচনা শুরু হয়। আলোচনার বিষয়ে সরাসরি জানেন এমন এক সূত্র এবং ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই পক্ষ স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার পথ খুঁজছে।  [BANGVIEWS-POST:1013]মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং দূত স্টিভ উইটকফ কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কাতার ও পাকিস্তান এ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখছে। তবে কুশনার ও উইটকফ সরাসরি কারিগরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।গত মাসে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা অন্তর্বর্তী চুক্তির ভিত্তিতে এই আলোচনা চলছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ থামানো, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনা শুরু করা।তবে অন্তর্বর্তী চুক্তির অর্থ ও বাস্তবায়ন নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এর জেরে গত সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে।ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইছে। একই সঙ্গে উপসাগরে প্রবেশ বা বের হওয়া জাহাজের ওপর ফি আরোপের অধিকারও প্রতিষ্ঠা করতে চায় তেহরান। ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগ করেও এ অবস্থান বাস্তবায়নে অনড় ইরান।  অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল অবাধ রাখা। যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। বর্তমানে সেখানে জাহাজ চলাচল আংশিকভাবে শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।রয়টার্সের সূত্র জানিয়েছে, দোহায় আলোচনা প্রধান আলোচক ও বিশেষজ্ঞদের পৃথক সেশনের মাধ্যমে এগোচ্ছে। মঙ্গলবার রাত থেকে আলোচনা শুরু হয় এবং বুধবারও তা চলছিল।ইরানের প্রকাশ্য অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমঝোতা এবং বিদেশে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়। ইরানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি দফার আলোচনায় এই দুই বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত নৌপথের বাইরে অগভীর পানিতে ঢুকে পড়ার পর হরমুজ প্রণালীতে একটি বিদেশি কনটেইনার জাহাজ আটকে পড়ে। ঘটনাটি প্রণালীতে নৌচলাচলের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা আরও সামনে এনেছে।জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক বন্দনা হরি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী আবার খুললেও পরিস্থিতি এখনো খণ্ডিত, অনিশ্চিত এবং পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়।রয়টার্স বলছে, এই যুদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোর ওপর ইরানি হামলা ডেকে আনে। এতে ইরান ও লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষ নিহত হয় এবং তেল-জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।[BANGVIEWS-POST:1012]অন্তর্বর্তী চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যকার সমান্তরাল সংঘাত বন্ধের কথাও রয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন সরকারের মধ্যে আলাদা আলোচনাও চলছে।বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবাধ নৌচলাচলের অবস্থান একসঙ্গে মেলানোই এখন দোহা আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: রয়টার্স

শান্তিচুক্তি ও হরমুজে নৌচলাচল ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কারিগরি আলোচনা