ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা ও নোটিশ দেওয়া হলেও এর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি।শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।মহাপরিচালক জানান, রিসোর্টটি প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিল না। ভবনটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ, যেখানে খাবার তৈরি করা হতো। আর দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হয়েছিল।ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও রিসোর্টটি কীভাবে চালু ছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল না।পর্যটন এলাকায় অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। তাঁর ভাষ্য, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।সামনে শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মহাপরিচালক।টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। বিস্তারিত তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেওয়ার পরও কার্যক্রম চালু রাখা এবং সারা দেশে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিনির্বাপণের চ্যালেঞ্জপুরান ঢাকায় ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ড, অনুমোদনহীন কারখানা ও গুদাম এবং বিস্ফোরক পদার্থের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার সরু রাস্তা এবং ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত দূরত্ব না থাকায় আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়। এসব কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।তিনি আরও বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা জরুরি। তবে পুরোনো বসতি ও স্থাপনাগুলোতে একসঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন এবং এ জন্য সময় প্রয়োজন। নতুন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বারবার সচেতন করা হচ্ছে।অগ্নিনির্বাপণে সক্ষমতা বাড়াতে বিকল্প ব্যবস্থার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সরু রাস্তায় দ্রুত পৌঁছানোর জন্য বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে হোস পাইপ নিয়ে গিয়ে আশপাশের ভবনের পানির রিজার্ভারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আগুন নেভানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট