ঢাকা    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চাঁদাবাজি বন্ধে আসছে নতুন আইন: আইজিপি

চাঁদাবাজি বন্ধে আসছে নতুন আইন: আইজিপি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করতে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই আইনের ফলে চাঁদাবাজির ঘটনায় বাদী না থাকলেও পুলিশ নিজেই মামলা দায়ের করতে পারবে এবং প্রাথমিক সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নতুন আইন চূড়ান্ত হতে পারে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক এক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, অনেক সময় আইন প্রয়োগ করতে গেলে নানামুখী সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। কেউ দাবি করেন কঠোর বল প্রয়োগ করা হোক, আবার বল প্রয়োগ করলে অভিযোগ তোলা হয় পুলিশ ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে; বিপরীতে বল প্রয়োগ না করলে পুলিশকে দুর্বল আখ্যা দেওয়া হয়। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, পুলিশ এসব বিতর্ক পেছনে ফেলে একটি কার্যকর বাহিনীর মাধ্যমে সমাজে টেকসই শান্তি, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনগণের হারানো বিশ্বাস ফেরানোর তাগিদ দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, গত ১৭ বছরে সাধারণ জনগণ ও পুলিশের মধ্যে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই জনআস্থা পুনরুদ্ধার এবং কার্যকর শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি খুলনা সফরে এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশব্যাপী মাদক, কিশোর গ্যাং, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দমনে যৌথ অভিযান চলছে। মাদক সমস্যার শিকড় উৎপাটনে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আলী হোসেন ফকির বলেন, অনেক সময় সমাজের প্রভাবশালী মহল কিংবা তাদের আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিরা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকেন। ফলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ভয়ে সরাসরি থানায় অভিযোগ করতে বা সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং পুলিশি কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিংকে পুলিশের একটি আনুষ্ঠানিক শাখা হিসেবে রূপ দেওয়া হবে এবং পুলিশ নিজেই উদ্যোগী হয়ে মামলা করতে পারবে। পরিশেষে তিনি পুলিশকে মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

ট্যাগ : আইজিপি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


চাঁদাবাজি বন্ধে আসছে নতুন আইন: আইজিপি

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করতে যুগোপযোগী নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি জানান, প্রস্তাবিত এই আইনের ফলে চাঁদাবাজির ঘটনায় বাদী না থাকলেও পুলিশ নিজেই মামলা দায়ের করতে পারবে এবং প্রাথমিক সত্যতা পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নিতে পারবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে নতুন আইন চূড়ান্ত হতে পারে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক এক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, অনেক সময় আইন প্রয়োগ করতে গেলে নানামুখী সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। কেউ দাবি করেন কঠোর বল প্রয়োগ করা হোক, আবার বল প্রয়োগ করলে অভিযোগ তোলা হয় পুলিশ ফ্যাসিস্ট আচরণ করছে; বিপরীতে বল প্রয়োগ না করলে পুলিশকে দুর্বল আখ্যা দেওয়া হয়। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, পুলিশ এসব বিতর্ক পেছনে ফেলে একটি কার্যকর বাহিনীর মাধ্যমে সমাজে টেকসই শান্তি, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনগণের হারানো বিশ্বাস ফেরানোর তাগিদ দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, গত ১৭ বছরে সাধারণ জনগণ ও পুলিশের মধ্যে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই জনআস্থা পুনরুদ্ধার এবং কার্যকর শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ কীভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই তিনি খুলনা সফরে এসেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশব্যাপী মাদক, কিশোর গ্যাং, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দমনে যৌথ অভিযান চলছে। মাদক সমস্যার শিকড় উৎপাটনে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ আইনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে আলী হোসেন ফকির বলেন, অনেক সময় সমাজের প্রভাবশালী মহল কিংবা তাদের আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিরা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকেন। ফলে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ভয়ে সরাসরি থানায় অভিযোগ করতে বা সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। এই প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং পুলিশি কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিংকে পুলিশের একটি আনুষ্ঠানিক শাখা হিসেবে রূপ দেওয়া হবে এবং পুলিশ নিজেই উদ্যোগী হয়ে মামলা করতে পারবে। পরিশেষে তিনি পুলিশকে মানবিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতা ও গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ