ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, মাঝেমধ্যেই হুমকি দেওয়া হয় যে তিনি দেশে ফিরে আসবেন; আমরাও চাই তিনি ফিরে আসুন, কারণ দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে তাঁর বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তাঁর আর দেশে ফেরা হয় না। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জনসমর্থনের তুলনা টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিন তাঁকে বরণ করতে ঢাকায় কোটি কোটি মুক্তিকামী মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। বিপরীতে শেখ হাসিনাকে গণরোষের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে—এটাই জনগণের ভালোবাসা আর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বাস্তব ব্যবধান।
মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, ইতিহাস কখনো বিকৃত বা মুছে ফেলা যায় না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যতই অপচেষ্টা করুক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক—সেই সত্য ইতিহাস পাল্টানো অসম্ভব। একইভাবে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু যে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা মুছে ফেলা যাবে না। জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসাই বিএনপির প্রধান শক্তি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা কাউকে পরকালে বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে ইহকালে সার্বিক উন্নয়ন ও জানমালের নিরাপত্তার শতভাগ গ্যারান্টি দিতে চাই।” তিনি জানান, প্রতিটি নাগরিকের হাতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিয়ে জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, জামায়াত শুধু মুখেই বড় বড় কথা বলে, অথচ ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য মাসিক সম্মানীর বাস্তব ব্যবস্থা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনকল্যাণমূলক এই ধারাবাহিকতায় শরিক হতে তিনি অতীতে জামায়াতকে সমর্থনকারীদের বিএনপির পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান।
মোকামতলাকে নতুন প্রশাসনিক উপজেলা হিসেবে রূপান্তরের প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম জানান, এটি বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি প্রতিশ্রুতি ছিল। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম ও যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্যসমূহ