জুলাইয়ের ঘটনাকে স্বীকার না করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ। তাঁর মতে, দলটিকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে গঠনমূলক চিন্তাভাবনার পাশাপাশি জুলাইয়ের ঘটনায় ক্ষমা চাইতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতি করতে চাইলে কী করা প্রয়োজন—এমন প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, দলটি একটি রাজনৈতিক সংগঠন। তবে রাজনীতিতে ফিরতে হলে তাদের আরও গঠনমূলক উপায়ে ভাবতে হবে এবং জুলাইয়ের ঘটনাকে স্বীকার করতে হবে। এরপর জনগণ তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের একটি প্রজন্ম আওয়ামী লীগের পতন ও দেশ ছাড়ার ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। এই প্রজন্ম রাজপথে, ফেসবুকে ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিল। আওয়ামী লীগের নিজস্ব বয়ান দিয়ে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের সমর্থন ফিরে পাওয়া কঠিন হবে বলেও মনে করেন তিনি।
পতিত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেন পার্থ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ফিরবেন কি না, তা সময় বলে দেবে। তবে তাঁর ধারণা, শেখ হাসিনা যেভাবে ভাবছেন, সেই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো বাংলাদেশে তৈরি হয়নি। ২০২৪ সালের হত্যা, মানসিক ট্রমা ও অত্যাচারের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ এখনো পুরোপুরি বের হতে পারেনি; এসব ঘটনা মানুষের মনে রয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। দুর্গাপূজার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সারা দেশে হিন্দুরা আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে তাঁদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ দেশে প্রবেশের সুযোগ এবং হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন পার্থ। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার কিছুদিন পর থেকেই ভারতের কিছু গণমাধ্যমে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচারের খবর প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ সেই বয়ানের ওপর ভিত্তি করে বক্তব্য দিচ্ছে।
গণতন্ত্র নেই—আওয়ামী লীগের এমন বক্তব্যের জবাবে পার্থ বলেন, দলটি ১৭ বছর দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে গেছে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগছে। তবে এখন মানুষ ভোট দিয়েছে, সরকার নির্বাচিত হয়েছে এবং বিরোধী দলও রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধীরে ধীরে আরও উন্নত হবে এবং ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে।
মন্তব্যসমূহ