ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সাজেকে পর্যটক-সেনা-পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ, উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

সাজেকে পর্যটক-সেনা-পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ, উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে আটকে পড়া পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপে সেখানে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ গড়ে তোলে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা। এর ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণে যাওয়া প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সকাল ১০টার দিকে অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী গাড়ির গতি রোধ করলে টহল দল আলোচনার মাধ্যমে সড়ক সচল করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সকাল পৌনে ১১টার দিকে অবরোধকারীরা হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে বিশৃঙ্খলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পাহাড়ের আড়াল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পর্যটকদের প্রাণরক্ষা ও আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীর টহল দল তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

আইএসপিআরের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই পুরো সহিংসতা ও অবরোধ ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের কিছু সশস্ত্র সদস্য পর্যটন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে এ ধরনের নাশকতা চালাচ্ছে। পর্যটনশিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতি ধ্বংসের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে এবং পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সেনাবাহিনীর এ ধরনের নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ : সাজেক ভ্যালি

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


সাজেকে পর্যটক-সেনা-পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ, উদ্ধার ৩ হাজার পর্যটক

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে আটকে পড়া পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে পাহাড়ি সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত পদক্ষেপে সেখানে আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ গড়ে তোলে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা। এর ফলে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণে যাওয়া প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে নিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সকাল ১০টার দিকে অবরোধকারীরা পর্যটকবাহী গাড়ির গতি রোধ করলে টহল দল আলোচনার মাধ্যমে সড়ক সচল করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সকাল পৌনে ১১টার দিকে অবরোধকারীরা হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাঠিচার্জ করে বিশৃঙ্খলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং পর্যটকবাহী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা পাহাড়ের আড়াল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পর্যটকদের প্রাণরক্ষা ও আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীর টহল দল তাৎক্ষণিক পাল্টা গুলি চালালে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

আইএসপিআরের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই পুরো সহিংসতা ও অবরোধ ছিল পূর্বপরিকল্পিত। সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে ইউপিডিএফের কিছু সশস্ত্র সদস্য পর্যটন এলাকায় আশ্রয় নিয়ে এ ধরনের নাশকতা চালাচ্ছে। পর্যটনশিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতি ধ্বংসের অপচেষ্টা প্রতিহত করতে এবং পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সেনাবাহিনীর এ ধরনের নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ