দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এবার দেশের ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বগুড়ার হোটেল মম-ইনের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত সভার প্রতিপাদ্য ছিল ‘উত্তরাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পত্রিকাটির সম্পাদক লোটন একরাম।
দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আয়োজনের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রশাসন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে পূজামণ্ডপগুলো পাহারা দিয়েছেন। তাঁদের যৌথ প্রচেষ্টার ফলেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পেরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের আগেও প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সঙ্গে এই সংখ্যার মিল রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের বিষয়টিও তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।
তাঁর দাবি, বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী রাজধানী ঢাকার বাইরে তিনটি পৃথক অঞ্চলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বিষয়টিকে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
এ সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটের বিষয়েও মন্তব্য করেন মীর শাহে আলম।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে নিজেদের নিশ্চিত ভোটার হিসেবে বিবেচনা করত। তবে গত নির্বাচনে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সেই আস্থার প্রতিফলন হিসেবেই এবার দেশে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অতিরিক্ত পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, ধর্মীয় উৎসবের নিরাপত্তায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফলে সারা দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা আয়োজন করা সম্ভব হয়েছে।
তবে উৎসব চলাকালে দেশে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে প্রতিমন্ত্রীর দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও চুরির অভিযোগও সামনে এসেছিল।
এসব অভিযোগের কয়েকটি নিয়ে তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছিল, পরীক্ষিত ঘটনাগুলোতে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে দুর্গাপূজার সময় দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকার কথা জানিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর।
গত ১৭ অক্টোবর পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির জানিয়েছিলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদ্যাপন কমিটিগুলোর সমন্বয়ে দেশের ৩৩ হাজারের বেশি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা চলছিল।
বগুড়ার মতবিনিময়সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
মন্তব্যসমূহ