ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সংখ্যালঘু নির্যাতন আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হাতিয়ার ছিল: হাসনাত

সংখ্যালঘু নির্যাতন আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হাতিয়ার ছিল: হাসনাত
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ—উভয়কেই রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট (স্টেট স্পন্সরড) রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। দলটির ক্ষমতাচ্যুতির পর বিগত তিন বছর ধরে দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হওয়াকে এর বড় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিশ্লেষণাত্মক পোস্টে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “এখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন আর ধর্মীয় উগ্রবাদ—এই দুটি উপাদানই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ছিল। পূজায় সুবিধাভোগী চক্রগুলোকে দিয়ে কৃত্রিম ও পরিকল্পিত নাশকতা (ম্যানুফ্যাকচার্ড সাবোটাজ) তৈরি করিয়ে তার দায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো হতো। এর মূল লক্ষ্য ছিল হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ উসকে দেওয়া এবং দেশে-বিদেশে প্রচার করা যে, আওয়ামী লীগ ছাড়া সংখ্যালঘুরা কোথাও নিরাপদ নয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে সংখ্যালঘু রক্ষার একমাত্র রক্ষাকবচ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরা কিংবা তথাকথিত উগ্রবাদের জুজুর ভয় দেখিয়ে দেশকে ‘আফগানিস্তান’ বানানোর বানোয়াট বয়ান দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা করেছিল পতিত সরকার। একারণেই একদিকে জঙ্গিবাদের নাটক সাজানো হতো, অন্যদিকে পূজা মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হতো। অথচ ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এবং আওয়ামী লীগের পলায়নের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনাগুলো দেশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উধাও হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে এনসিপির এই সংসদ সদস্য লেখেন, সমাজ ও রাজনীতিতে যে চাঁদাবাজি, ব্যবসা জবরদখল ও ভূমি দখলের মতো অস্থিরতা রয়েছে, তা মূলত কোনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা নয়; বরং বেশিরভাগই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এতে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নির্বিশেষে সাধারণ ক্ষমতাহীন সব নাগরিকই ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী চক্রের জুলুমের শিকার হন। কিন্তু আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করে পরিকল্পিতভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘটনাগুলোকে বেছে নিয়ে সাম্প্রদায়িক বয়ান তৈরি করত। অপরাধীদের কঠোর বিচার এবং আইনের শাসন সুনিশ্চিত করা গেলে সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার বিষবাষ্প দ্রুত দূর হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে টানা তিন বছর দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়া ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এবং এটি ‘জুলাইয়ের অর্জন’।

ট্যাগ : ফেসবুক পোস্ট হাসনাত আব্দুল্লাহ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


সংখ্যালঘু নির্যাতন আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হাতিয়ার ছিল: হাসনাত

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ—উভয়কেই রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট (স্টেট স্পন্সরড) রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। দলটির ক্ষমতাচ্যুতির পর বিগত তিন বছর ধরে দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হওয়াকে এর বড় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিশ্লেষণাত্মক পোস্টে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “এখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন আর ধর্মীয় উগ্রবাদ—এই দুটি উপাদানই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ছিল। পূজায় সুবিধাভোগী চক্রগুলোকে দিয়ে কৃত্রিম ও পরিকল্পিত নাশকতা (ম্যানুফ্যাকচার্ড সাবোটাজ) তৈরি করিয়ে তার দায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর চাপানো হতো। এর মূল লক্ষ্য ছিল হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক বিভেদ উসকে দেওয়া এবং দেশে-বিদেশে প্রচার করা যে, আওয়ামী লীগ ছাড়া সংখ্যালঘুরা কোথাও নিরাপদ নয়।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে সংখ্যালঘু রক্ষার একমাত্র রক্ষাকবচ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরা কিংবা তথাকথিত উগ্রবাদের জুজুর ভয় দেখিয়ে দেশকে ‘আফগানিস্তান’ বানানোর বানোয়াট বয়ান দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা করেছিল পতিত সরকার। একারণেই একদিকে জঙ্গিবাদের নাটক সাজানো হতো, অন্যদিকে পূজা মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হতো। অথচ ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এবং আওয়ামী লীগের পলায়নের সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের ঘটনাগুলো দেশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উধাও হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে এনসিপির এই সংসদ সদস্য লেখেন, সমাজ ও রাজনীতিতে যে চাঁদাবাজি, ব্যবসা জবরদখল ও ভূমি দখলের মতো অস্থিরতা রয়েছে, তা মূলত কোনো সাম্প্রদায়িক সমস্যা নয়; বরং বেশিরভাগই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। এতে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নির্বিশেষে সাধারণ ক্ষমতাহীন সব নাগরিকই ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী চক্রের জুলুমের শিকার হন। কিন্তু আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করে পরিকল্পিতভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘটনাগুলোকে বেছে নিয়ে সাম্প্রদায়িক বয়ান তৈরি করত। অপরাধীদের কঠোর বিচার এবং আইনের শাসন সুনিশ্চিত করা গেলে সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার বিষবাষ্প দ্রুত দূর হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে টানা তিন বছর দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়া ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এবং এটি ‘জুলাইয়ের অর্জন’।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ