২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের সংকট কাটানো, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজবাড়ী পৌরসভার মিলনায়তনে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা।
রাজস্ব আয় বাড়ানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিতুমীর জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে কর আহরণ ১০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার।
দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ক্ষমতাচ্যুত সরকারকে দায়ী করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকার ব্যাংক খাতকে যে অবস্থায় রেখে গেছে, সেখান থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
পাশাপাশি দেশ থেকে লুট করে নেওয়া ৪০ বিলিয়ন ডলার উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়া কত দূর এগিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিতুমীর। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও সরকারের নেওয়া কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয় পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর কথা জানান তিনি।
অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অবস্থানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিতুমীর জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক মনে করে, সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে।
এসব সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
তবে বন্ধ কলকারখানা চালুর জন্য ঘোষিত অর্থের কতটুকু ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং পাচারের অর্থ উদ্ধারে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রদত্ত প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ