নওগাঁর ধামইরহাটে নিঃসন্তান বৃদ্ধা হালিমা বেগমকে (৬৫) হত্যার ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমানো টাকা ও সম্পদের প্রতি লোভ এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে মাদক বিক্রি ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা উদঘাটন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহত হালিমার ছোট ভাই মজনু রহমান, তাঁর স্ত্রী হোসনে আরা এবং একই এলাকার রবিউল ইসলাম, হামিদুর রহমান ও মোশারফ হোসেন।
পুলিশ জানায়, হালিমা বেগম ছিলেন স্বামীহীন ও নিঃসন্তান। ধামইরহাট উপজেলার ছিলিমপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে ছোট ভাইয়ের ঘরের পেছনে একটি ছাপরা ঘরে একাই থাকতেন তিনি।
অন্যের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন হালিমা। এভাবে উপার্জিত অর্থ থেকে কিছু টাকা জমিয়েছিলেন তিনি।
পুলিশের দাবি, হালিমার জমানো টাকা ও সম্পদের প্রতি লোভ ছিল তাঁর ছোট ভাই মজনু রহমান ও ভাইয়ের স্ত্রী হোসনে আরার। অন্যদিকে মাদক বিক্রির তথ্য প্রকাশ এবং জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিল আরও তিন প্রতিবেশীর সঙ্গে।
এসব বিরোধ ও আর্থিক স্বার্থের কারণে পাঁচজন মিলে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে হামিদুর রহমান কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে বাইরে ডেকে আনেন।
এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যান।
সেখানে রশি দিয়ে হালিমার দুই হাত বেঁধে দেওয়া হয়। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পুলিশের।
হত্যার পর হালিমার কানে থাকা সোনার দুল খুলে নেন তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী হোসনে আরা বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুল খুলে নেওয়ার সময় হালিমার একটি কানের লতি কেটে যায় এবং অন্য কানের লতি ছিঁড়ে যায়। এরপর মরদেহটি বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে চলে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।
পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ছিলিমপুর গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশে ধানখেত থেকে হালিমার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ধামইরহাট থানায় হত্যা মামলা করা হয়। তদন্ত শুরু করে প্রথমে হালিমার ছোট ভাই মজনু রহমান ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং সম্পত্তির লোভের বিষয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মন্তব্যসমূহ