অর্থকষ্ট ও ঋণের চাপে অনাগত সন্তানকে বিক্রি করার কথা ভাবছিলেন অন্তঃসত্ত্বা নারী আঁখি। গণমাধ্যমে তাঁর অসহায়ত্বের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। পরে পরিবারটিকে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি সন্তান প্রসবের সব খরচ বহন এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
২৪ বছর বয়সী মোসা. আঁখি তৃতীয়বারের মতো মা হতে চলেছেন। কিন্তু স্বামীর দীর্ঘদিনের অসুস্থতা এবং সংসারের আর্থিক সংকটে অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েই অনিশ্চয়তায় পড়েন তিনি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তাঁর স্বামী। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় নিয়মিত সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্বামীর চিকিৎসা ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাড়তে থাকে ঋণের বোঝা।
একপর্যায়ে সেই ঋণ পরিশোধের চেষ্টায় গর্ভের সন্তানকে অন্য পরিবারের কাছে তুলে দেওয়ার কথা ভাবেন আঁখি।
গত ১৩ অক্টোবর ‘গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চান আঁখি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক মানবজমিন। সেখানে তাঁর পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার বিষয়টি উঠে আসে।
প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর সেদিনই পরিবারটির খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশনার পর এক ঘণ্টার মধ্যেই আঁখি ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের আর্থিক অবস্থা ও সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়।
পরিবারটির পরিস্থিতি জানার পর আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত রোববার (১৮ অক্টোবর) আঁখি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকা হয়।
সেখানে তাঁদের হাতে এক লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আঁখির সন্তান প্রসবের যাবতীয় খরচ বহন এবং পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা কবে নাগাদ হবে কিংবা সন্তান প্রসবের খরচ কীভাবে বহন করা হবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্যসমূহ