ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

আট মাসেই পূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও ছুটি নিশ্চিত করেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আট মাসেই পূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও ছুটি নিশ্চিত করেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় শারদীয় দুর্গাপূজায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সরকারি আর্থিক বরাদ্দ এবং দীর্ঘতম ছুটি বাস্তবায়ন করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপের বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে বিএনপি নেতৃবৃন্দ সবসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে ছুটে এসেছে। অতীতের রাজনৈতিক মহলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমাদের আগেও কেউ কেউ এখানে এসে বলত—'আপনারা নিশ্চিন্তে থাকেন, আমরা পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সঙ্গে আলাপ করেছি, তারা আপনাদের ওপর ভরসা করে আমাদের ক্ষমতায় রাখবে।' আমরা সেই পরনির্ভরশীল রাজনীতিতে একেবারেই বিশ্বাস করি না।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, স্বাধীন বাংলাদেশের শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা এমন একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র চেয়েছিলেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।

বক্তব্যে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দের চেয়ে সার্বজনীন নাগরিক মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি সচেতনভাবেই 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি' শব্দটা এড়িয়ে চলি; কারণ সংবিধানে আমরা কাউকে আলাদা সম্প্রদায় বা সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করতে চাই না। পৃথিবীর বহু দেশে নানা ধর্মের মানুষের সংখ্যানুপাতিক তারতম্য থাকে, কিন্তু নাগরিক হিসেবে সবাই সমান। আমরা কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ উপমায় বন্দি করতে রাজি নই।”

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম—সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছে। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মাবলম্বী রাজপথে অকাতরে রক্ত ঢেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে একক ও অভিন্ন ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ পরিচয় প্রতিষ্ঠার নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের একটি গোষ্ঠী তাঁদের কেবল ভোট ব্যাংক বানিয়ে রেখেছিল, কিন্তু ব্যালটের মাধ্যমে সেই ভ্রম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকার জনগণের সেই আস্থার প্রতিদান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যে পূজায় রেকর্ড পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ ও সর্বোচ্চ সরকারি ছুটি সফলভাবে কার্যকর করেছে।

ট্যাগ : রাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জেএম সেন হল চট্টগ্রাম

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


আট মাসেই পূজায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও ছুটি নিশ্চিত করেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় শারদীয় দুর্গাপূজায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সরকারি আর্থিক বরাদ্দ এবং দীর্ঘতম ছুটি বাস্তবায়ন করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর রহমতগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপের বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে বিএনপি নেতৃবৃন্দ সবসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে ছুটে এসেছে। অতীতের রাজনৈতিক মহলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমাদের আগেও কেউ কেউ এখানে এসে বলত—'আপনারা নিশ্চিন্তে থাকেন, আমরা পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সঙ্গে আলাপ করেছি, তারা আপনাদের ওপর ভরসা করে আমাদের ক্ষমতায় রাখবে।' আমরা সেই পরনির্ভরশীল রাজনীতিতে একেবারেই বিশ্বাস করি না।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, স্বাধীন বাংলাদেশের শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা এমন একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র চেয়েছিলেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে।

বক্তব্যে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দের চেয়ে সার্বজনীন নাগরিক মর্যাদার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি সচেতনভাবেই 'সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি' শব্দটা এড়িয়ে চলি; কারণ সংবিধানে আমরা কাউকে আলাদা সম্প্রদায় বা সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করতে চাই না। পৃথিবীর বহু দেশে নানা ধর্মের মানুষের সংখ্যানুপাতিক তারতম্য থাকে, কিন্তু নাগরিক হিসেবে সবাই সমান। আমরা কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ উপমায় বন্দি করতে রাজি নই।”

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিম—সব ধর্মের মানুষ রক্ত দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছে। একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মাবলম্বী রাজপথে অকাতরে রক্ত ঢেলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে চব্বিশ-পরবর্তী বাংলাদেশে একক ও অভিন্ন ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ পরিচয় প্রতিষ্ঠার নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীতের একটি গোষ্ঠী তাঁদের কেবল ভোট ব্যাংক বানিয়ে রেখেছিল, কিন্তু ব্যালটের মাধ্যমে সেই ভ্রম ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকার জনগণের সেই আস্থার প্রতিদান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যে পূজায় রেকর্ড পরিমাণ সরকারি বরাদ্দ ও সর্বোচ্চ সরকারি ছুটি সফলভাবে কার্যকর করেছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ