ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অর্থের ঘাটতিই আত্মসাতের প্রমাণ নয়, সাবেক পোস্টমাস্টারকে হাইকোর্টের মুক্তি

অর্থের ঘাটতিই আত্মসাতের প্রমাণ নয়, সাবেক পোস্টমাস্টারকে হাইকোর্টের মুক্তি
ফাইল ছবি
ফলো করুন

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ডাকঘরে ১৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুককে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সরকারি হিসাবে অর্থের ঘাটতি পাওয়া কিংবা দায়িত্ব হস্তান্তর না করার ঘটনা একাই আত্মসাতের অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগ প্রতিষ্ঠায় নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা জরুরি।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মামলাটির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর একক বেঞ্চ ওমর ফারুকের করা ফৌজদারি আপিল মঞ্জুর করে তাঁকে খালাস দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসে ১৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা ৯৪ পয়সার আর্থিক ঘাটতি শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়েই তিনি আত্মগোপন করেন।

এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হয়। বিচার শেষে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর লালমনিরহাটের বিশেষ জজ আদালত দুই ধারায় তাঁকে মোট সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন ওমর ফারুক।

আপিলের শুনানিতে মামলার আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথির ঘাটতি গুরুত্ব পায়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলায় লালমনিরহাটের প্রধান ডাকঘর থেকে ৯ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ওই অর্থ আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল বা সেখানে গ্রহণ করা হয়েছিল—এমন সুনির্দিষ্ট নথি তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।

আদালত বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের ঘাটতি দেখা দিলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলে সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে। তবে সন্দেহ যত জোরালোই হোক, তা প্রমাণের বিকল্প নয়। অর্থ আত্মসাৎ বা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ভরযোগ্য ও নির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।

মামলার নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দেখতে পান হাইকোর্ট। আদালতের বিবেচনায়, শুধু আর্থিক হিসাবের অসংগতি বা দায়িত্ব হস্তান্তর না করার বিষয় দিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অপরাধ প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

এসব দিক বিবেচনায় নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। এর ফলে আদিতমারী উপজেলা ডাকঘরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুক খালাস পান।

ট্যাগ : হাইকোর্ট লালমনিরহাট

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


অর্থের ঘাটতিই আত্মসাতের প্রমাণ নয়, সাবেক পোস্টমাস্টারকে হাইকোর্টের মুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ডাকঘরে ১৩ লাখ টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডিত সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুককে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সরকারি হিসাবে অর্থের ঘাটতি পাওয়া কিংবা দায়িত্ব হস্তান্তর না করার ঘটনা একাই আত্মসাতের অপরাধ প্রমাণ করে না। অভিযোগ প্রতিষ্ঠায় নির্ভরযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা জরুরি।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) মামলাটির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর একক বেঞ্চ ওমর ফারুকের করা ফৌজদারি আপিল মঞ্জুর করে তাঁকে খালাস দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসে ১৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫০ টাকা ৯৪ পয়সার আর্থিক ঘাটতি শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছিল, দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়েই তিনি আত্মগোপন করেন।

এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা হয়। বিচার শেষে ২০১৪ সালের ২৩ অক্টোবর লালমনিরহাটের বিশেষ জজ আদালত দুই ধারায় তাঁকে মোট সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন ওমর ফারুক।

আপিলের শুনানিতে মামলার আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথির ঘাটতি গুরুত্ব পায়। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মামলায় লালমনিরহাটের প্রধান ডাকঘর থেকে ৯ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ওই অর্থ আদিতমারী উপজেলা পোস্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছিল বা সেখানে গ্রহণ করা হয়েছিল—এমন সুনির্দিষ্ট নথি তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।

আদালত বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অর্থের ঘাটতি দেখা দিলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকলে সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে। তবে সন্দেহ যত জোরালোই হোক, তা প্রমাণের বিকল্প নয়। অর্থ আত্মসাৎ বা অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রতিষ্ঠার জন্য নির্ভরযোগ্য ও নির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রয়োজন।

মামলার নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি দেখতে পান হাইকোর্ট। আদালতের বিবেচনায়, শুধু আর্থিক হিসাবের অসংগতি বা দায়িত্ব হস্তান্তর না করার বিষয় দিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অপরাধ প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

এসব দিক বিবেচনায় নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। এর ফলে আদিতমারী উপজেলা ডাকঘরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. ওমর ফারুক খালাস পান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ