ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: খাদ্যমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: খাদ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের নাগরিক—এ কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তাঁর মতে, সবাই মিলেমিশে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১২টি দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়ের পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য আর্থিক অনুদানও দেন আফরোজা খানম।

মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও আমরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের নাগরিক। পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

নিজের রাজনৈতিক জীবনে স্থানীয় মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজ আপনাদের কারণেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আপনারা পাশে ছিলেন বলেই আমি আজ এই অবস্থানে এসেছি। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সবার কল্যাণে কাজ করতে পারি।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম ও বর্ণের পার্থক্য ভুলে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা প্রয়োজন। দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে সুসম্পর্ক অটুট রেখে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন আফরোজা খানম। দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় স্থানীয় আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উৎসবের আয়োজন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

খাদ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন করা ১২টি পূজামণ্ডপ ও মন্দির হলো—নবগ্রাম কালীবাড়ি পূজামণ্ডপ, লোকনাথ কুঠির শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, উকিয়ারা দয়াল রাজবংশীর বাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, কৈট্টা অগ্রগামী তরুণ সংঘ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মাঝিপাড়া পলাশ স্মৃতি দুর্গা মন্দির, দশ আনী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মিতরা শ্রী শ্রী হরিকালী মন্দির, এগারোশ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দির, বাজার লক্ষ্মীমণ্ডপ, পূর্ব দাশড়া কালীখোলা দুর্গা মন্দির ও শিববাড়ী দুর্গা মন্দির।

মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁকে কাছে পেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী, পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উপস্থিত ব্যক্তিরা এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও সবার মঙ্গল কামনা করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা নুর তাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী।

ট্যাগ : মানিকগঞ্জ খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা শারদীয় দুর্গাপূজা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক: খাদ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের নাগরিক—এ কথা উল্লেখ করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তাঁর মতে, সবাই মিলেমিশে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১২টি দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময়ের পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের জন্য আর্থিক অনুদানও দেন আফরোজা খানম।

মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও আমরা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা এবং বাংলাদেশের নাগরিক। পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রেখে সবাইকে মিলেমিশে বসবাস করতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’

নিজের রাজনৈতিক জীবনে স্থানীয় মানুষের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজ আপনাদের কারণেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি। আপনারা পাশে ছিলেন বলেই আমি আজ এই অবস্থানে এসেছি। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সবার কল্যাণে কাজ করতে পারি।’

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ধর্ম ও বর্ণের পার্থক্য ভুলে সবার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা প্রয়োজন। দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে সুসম্পর্ক অটুট রেখে এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন আফরোজা খানম। দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় স্থানীয় আয়োজক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তিনি মনোযোগ দিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি পূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উৎসবের আয়োজন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

খাদ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন করা ১২টি পূজামণ্ডপ ও মন্দির হলো—নবগ্রাম কালীবাড়ি পূজামণ্ডপ, লোকনাথ কুঠির শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, উকিয়ারা দয়াল রাজবংশীর বাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, কৈট্টা অগ্রগামী তরুণ সংঘ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মাঝিপাড়া পলাশ স্মৃতি দুর্গা মন্দির, দশ আনী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মিতরা শ্রী শ্রী হরিকালী মন্দির, এগারোশ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, আনন্দময়ী কালীবাড়ি মন্দির, বাজার লক্ষ্মীমণ্ডপ, পূর্ব দাশড়া কালীখোলা দুর্গা মন্দির ও শিববাড়ী দুর্গা মন্দির।

মন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তাঁকে কাছে পেয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী, পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উপস্থিত ব্যক্তিরা এ সময় ধর্মীয় সম্প্রীতি, শান্তি ও সবার মঙ্গল কামনা করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা নুর তাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ