ভারতের জ্বালানি আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার উদ্যোগে অগ্রগতি হওয়ায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে।
চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে রয়েছেন রুবিও। এবারের সফরের অন্যতম লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যসংক্রান্ত উত্তেজনা কমানো এবং জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করা। মুম্বাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ভারত তাদের জ্বালানি খাতে বৈচিত্র্য আনার আকাঙক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছে। এটি বুদ্ধিমানের মতো কাজ।”
ভারত দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। গত বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানির বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছিল।
রুবিওর মতে, জ্বালানি আমদানির উৎস পরিবর্তন করা সহজ বা তাৎক্ষণিক কোনো প্রক্রিয়া নয়। তবে এ ক্ষেত্রে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অগ্রগতি দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রুবিও জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে।
গত মে মাসে ভারত সফরের সময় রুবিও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে এবারের সফরসূচিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই। এবার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন নিরসন এবং জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার মধ্যে রুবিওর এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
মন্তব্যসমূহ