ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। এসব অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদেরি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এইচএসবিসির ফিউচার ফোরামে তিনি এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সংকট কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আবারও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
এলহেদেরি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই অঞ্চল সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং তারপরও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে। তবে তার জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ লাগবে। অবশ্যই আমরা সংঘাতের সমাধান দেখতে চাই এবং সেই আশা করি। কিন্তু সম্ভবত পাঁচ বছর পর হরমুজ প্রণালি আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ থাকবে না।”
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ এটি। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
এ কারণে প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয়েও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প পথ তৈরিতে পাইপলাইন ও বন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এইচএসবিসি প্রধানের ধারণা, এ ধরনের উদ্যোগ সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি অঞ্চলটির পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও তুরস্কে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের সুযোগ দেখছে এইচএসবিসি। সোমবার প্রকাশিত ব্যাংকটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অঞ্চলের বিভিন্ন প্রকল্পে মোট ৮৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া পরিকল্পনাধীন এবং এখনো চূড়ান্ত বরাদ্দ না পাওয়া অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বৃহত্তর তালিকায় প্রায় ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। দুবাইভিত্তিক নির্মাণ খাতের বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এমইইডির তথ্য ব্যবহার করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে ব্যাংকটি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিকল্প পাইপলাইন ও বন্দর অবকাঠামো কার্যকরভাবে গড়ে উঠলে হরমুজ প্রণালির ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে নৌপথটির গুরুত্ব কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে বিকল্প ব্যবস্থার পরিবহন সক্ষমতা, বিনিয়োগ বাস্তবায়নের গতি এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।
মন্তব্যসমূহ