ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে চীনা বাহিনী

দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে চীনা বাহিনী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ সাবিনা ডুবচরের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়াই জলসীমায় প্রবেশ করায় ইউএসএস চার্লসটনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নৌবাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে সাগরটির উত্তর প্রান্তে চীনা কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের কথা জানিয়েছে তাইওয়ান।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার চীনের সাদার্ন থিয়েটার কমান্ড জানায়, ভোরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা ডুবচরসংলগ্ন জলসীমায় প্রবেশ করে। চীনের দাবি, এ প্রবেশের জন্য তাদের সরকারের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বেইজিংয়ের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশটির সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থ লঙ্ঘনের পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করে। এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীনা সামরিক কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও মার্কিন নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। দক্ষিণ চীন সাগরে এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা অভিযান’ শব্দটি ব্যবহার করে। তবে দেশটির সর্বশেষ এমন অভিযানের তথ্য এক বছরেরও বেশি আগের।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি চীনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিপাইনের এক সামরিক মুখপাত্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলের জন্য কোনো দেশের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

সাবিনা ডুবচর নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। গত মাসে ওই ডুবচরের কাছে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ফিলিপাইনের একটি নৌযানকে চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজ ধাক্কা দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড। তবে ওই সংঘর্ষের জন্য ফিলিপাইনকে দায়ী করেছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে ফিলিপাইনের। দেশটি ও চীন—উভয়েই সাবিনা ডুবচর এবং বিস্তৃত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে বেইজিং, যদিও ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও সেখানে পাল্টা দাবি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা বিশেষভাবে বেড়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে পৃথক একটি ঘটনায় চীনের কোস্ট গার্ডের জাহাজ তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছের নিষিদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানায়, চীনা জাহাজটিকে সতর্ক করে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের ‘তাইচুং’ জাহাজ পাঠানো হয়। এ সময় দুই পক্ষই পরস্পরের উদ্দেশে বার্তা প্রচার করে।

চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। মঙ্গলবার তাইপেতে আয়োজিত একটি ফোরামে মার্কিন কংগ্রেস-নিযুক্ত একটি পর্যালোচনা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলে চীনা কোস্ট গার্ডের টহল অত্যন্ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

একই অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মহাসচিব জোসেফ উ বলেন, দ্বীপটির পূর্ব দিকের জলসীমার ওপর চীনের কোনো আইনি দাবি নেই।

দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন দ্বীপ ও জলসীমার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আবার সামনে এনেছে।

সূত্র: রয়টার্স।

ট্যাগ : যুক্তরাষ্ট্র চীন দক্ষিণ চীন সাগর মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


দক্ষিণ চীন সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে চীনা বাহিনী

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ সাবিনা ডুবচরের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়াই জলসীমায় প্রবেশ করায় ইউএসএস চার্লসটনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে নৌবাহিনীর সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে সাগরটির উত্তর প্রান্তে চীনা কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের কথা জানিয়েছে তাইওয়ান।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার চীনের সাদার্ন থিয়েটার কমান্ড জানায়, ভোরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সাবিনা ডুবচরসংলগ্ন জলসীমায় প্রবেশ করে। চীনের দাবি, এ প্রবেশের জন্য তাদের সরকারের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বেইজিংয়ের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশটির সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থ লঙ্ঘনের পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করে। এ ধরনের পদক্ষেপ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীনা সামরিক কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও মার্কিন নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। দক্ষিণ চীন সাগরে এ ধরনের অভিযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ‘নৌচলাচলের স্বাধীনতা অভিযান’ শব্দটি ব্যবহার করে। তবে দেশটির সর্বশেষ এমন অভিযানের তথ্য এক বছরেরও বেশি আগের।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি চীনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিপাইনের এক সামরিক মুখপাত্র। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধভাবে চলাচলের জন্য কোনো দেশের কাছ থেকে আগাম অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

সাবিনা ডুবচর নিয়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। গত মাসে ওই ডুবচরের কাছে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ফিলিপাইনের একটি নৌযানকে চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজ ধাক্কা দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড। তবে ওই সংঘর্ষের জন্য ফিলিপাইনকে দায়ী করেছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে ফিলিপাইনের। দেশটি ও চীন—উভয়েই সাবিনা ডুবচর এবং বিস্তৃত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দাবি করে। দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশ এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে বেইজিং, যদিও ব্রুনেই, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামেরও সেখানে পাল্টা দাবি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা বিশেষভাবে বেড়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে পৃথক একটি ঘটনায় চীনের কোস্ট গার্ডের জাহাজ তাইওয়ান-নিয়ন্ত্রিত প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছের নিষিদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানায়, চীনা জাহাজটিকে সতর্ক করে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের ‘তাইচুং’ জাহাজ পাঠানো হয়। এ সময় দুই পক্ষই পরস্পরের উদ্দেশে বার্তা প্রচার করে।

চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। মঙ্গলবার তাইপেতে আয়োজিত একটি ফোরামে মার্কিন কংগ্রেস-নিযুক্ত একটি পর্যালোচনা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলে চীনা কোস্ট গার্ডের টহল অত্যন্ত অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।

একই অনুষ্ঠানে তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মহাসচিব জোসেফ উ বলেন, দ্বীপটির পূর্ব দিকের জলসীমার ওপর চীনের কোনো আইনি দাবি নেই।

দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন দ্বীপ ও জলসীমার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আবার সামনে এনেছে।

সূত্র: রয়টার্স।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ