ইয়েমেনের সাবা প্রদেশে সরকারি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রদেশটির সরকারি দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। হামলার পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্ট রাশদ আল-আলিমি হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল আল-আলম মিলিটারি ট্রেনিং ক্যাম্পে একসঙ্গে তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে হুথিরা। ওই কেন্দ্রে ইয়েমেনি বাহিনীর নতুন সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৩ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে সাবা প্রদেশের কর্তৃপক্ষ।
হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক শাখার মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে। তিনি দাবি করেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সৌদি সমর্থিত একটি সেনাঘাঁটি। তাঁর বক্তব্য, সৌদি সমর্থিত সেনারা যেখানে অবস্থান করবে, সেসব স্থানেই হামলা চালানো হবে।
এদিকে, নতুন সেনাদের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেন্ট রাশদ আল-আলিমি।
ইয়েমেনে ২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট সংঘাতে যুক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সাত বছর ধরে বোমাবর্ষণ চালালেও রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের সরাতে পারেনি।
পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। এর ফলে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত হয়ে এলেও সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর ইয়েমেনে আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
মন্তব্যসমূহ