ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে: গোলাম পরওয়ার

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে: গোলাম পরওয়ার
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সরকারের কোটি কোটি টাকার তহবিল থাকার পরও কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাঁদের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই আহতদের চিকিৎসার জন্য জামায়াত পাশে ছিল। সারা বিশ্বে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব চেষ্টায় জুলাই শহীদদের স্মৃতি তুলে ধরতে এবং সংরক্ষণের জন্য তিনটি ভাষায় (বাংলা, ইংরেজি ও আরবি) বই প্রকাশ করেছে।’

জামায়াত জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সাংবিধানিক পদসহ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের লোকদের বসাচ্ছে। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতসহ ১১ দল জুলাইকে ধারণ করে বলে জনগণের দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছি।’

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি তাদের নোট অব ডিসেন্টের ওপর অনড় থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরোধিতা করছে এবং সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের পথে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের নোট অব ডিসেন্টের ওপর অনড় থাকতে গিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা ফ্যাসিবাদী। তারা নিজেদের মতো বিশেষ কমিটি করে সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের পথে যাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার না করে যেভাবে রাখা হচ্ছে, তাতে যে প্রধানমন্ত্রীই আসবেন, তিনিই ফ্যাসিবাদী হবেন।’

গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট দিয়ে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে দাবি করে গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের সহযোগিতা চাওয়ার প্রয়োজন কেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের সাত মাসের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের সাত মাসে সমন্বয়হীনতা, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে, তা হাস্যকর।’

সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিজম শিখেছে আওয়ামী লীগকে দেখে। কিন্তু রিজভী সাহেব সাত মাসেই তা ভুলে গেছেন। গণভোটের রায় না মানা ফ্যাসিবাদের পথ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণরায় উপেক্ষা করা ফ্যাসিবাদের পথ।’

ওসমানী উদ্যানে একটি অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অংশ না নেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেরও জবাব দেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম না থাকায় অসম্মানিত বোধ করে তিনি সেখানে যাননি। অথচ আমন্ত্রণপত্রে প্রতিমন্ত্রীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রুলস অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী, তিনি একজন পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদার অধিকারী। কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে যথাযথ সম্মান না দেওয়ার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। ফলে আমরা এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। প্রধানমন্ত্রী যে অসত্য ও হাস্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন, আমরা তার নিন্দা জানাই।’

সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণ নিয়ে কথা বললে বিরোধী দলকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দলের আন্দোলন উপেক্ষা করে সরকার অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির পথ তৈরি করছে, যা আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারে।

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো জোট ছিল না উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট করিনি। যেমন চারদলীয় ও ২০ দলীয় জোট করা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। আমরা জামায়াতের প্রস্তুত করা কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মুলা বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় পার্টি, বাম দলসহ অনেক দলের সঙ্গে আন্দোলন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপির গণবিরোধী অবস্থানের কারণে দলটি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেনি এবং বিএনপির কারণেই আওয়ামী লীগ ওই বছর ক্ষমতায় এসেছিল বলে তিনি মনে করেন।

মাদরাসাগুলোর ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দলীয় লোকদের বসানোর উদ্দেশ্যেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের গত ১৭ বছরের কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন।

এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের এমপিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অনির্বাচিত নারী এমপিদের নির্বাচিত এমপিদের ওপর দারোগাগিরি করতে বসানো হয়েছে। এটি ফ্যাসিবাদের পথ। আমরা অসংলগ্ন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের বেতন, গণভোটের রায়, সংবিধান সংস্কার, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং বিরোধী দলের বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

ট্যাগ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিয়া গোলাম পরওয়ার জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে: গোলাম পরওয়ার

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সরকারের কোটি কোটি টাকার তহবিল থাকার পরও কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তাঁদের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১২টায় রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই আহতদের চিকিৎসার জন্য জামায়াত পাশে ছিল। সারা বিশ্বে জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব চেষ্টায় জুলাই শহীদদের স্মৃতি তুলে ধরতে এবং সংরক্ষণের জন্য তিনটি ভাষায় (বাংলা, ইংরেজি ও আরবি) বই প্রকাশ করেছে।’

জামায়াত জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে না, বিএনপির এমন অভিযোগকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সাংবিধানিক পদসহ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও যুবদলের লোকদের বসাচ্ছে। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে নানা টালবাহানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতসহ ১১ দল জুলাইকে ধারণ করে বলে জনগণের দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছি।’

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি তাদের নোট অব ডিসেন্টের ওপর অনড় থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরোধিতা করছে এবং সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের পথে এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি তাদের নোট অব ডিসেন্টের ওপর অনড় থাকতে গিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা ফ্যাসিবাদী। তারা নিজেদের মতো বিশেষ কমিটি করে সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের পথে যাচ্ছে। সংবিধান সংস্কার না করে যেভাবে রাখা হচ্ছে, তাতে যে প্রধানমন্ত্রীই আসবেন, তিনিই ফ্যাসিবাদী হবেন।’

গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট দিয়ে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে দাবি করে গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তোলেন, সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের সহযোগিতা চাওয়ার প্রয়োজন কেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের সাত মাসের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের সাত মাসে সমন্বয়হীনতা, উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে, তা হাস্যকর।’

সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিজম শিখেছে আওয়ামী লীগকে দেখে। কিন্তু রিজভী সাহেব সাত মাসেই তা ভুলে গেছেন। গণভোটের রায় না মানা ফ্যাসিবাদের পথ। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণরায় উপেক্ষা করা ফ্যাসিবাদের পথ।’

ওসমানী উদ্যানে একটি অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অংশ না নেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেরও জবাব দেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম না থাকায় অসম্মানিত বোধ করে তিনি সেখানে যাননি। অথচ আমন্ত্রণপত্রে প্রতিমন্ত্রীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রুলস অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী, তিনি একজন পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদার অধিকারী। কিন্তু আমন্ত্রণপত্রে যথাযথ সম্মান না দেওয়ার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। ফলে আমরা এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। প্রধানমন্ত্রী যে অসত্য ও হাস্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন, আমরা তার নিন্দা জানাই।’

সরকারের দুর্নীতি ও দলীয়করণ নিয়ে কথা বললে বিরোধী দলকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দলের আন্দোলন উপেক্ষা করে সরকার অরাজকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির পথ তৈরি করছে, যা আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারে।

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো জোট ছিল না উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট করিনি। যেমন চারদলীয় ও ২০ দলীয় জোট করা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। আমরা জামায়াতের প্রস্তুত করা কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মুলা বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় পার্টি, বাম দলসহ অনেক দলের সঙ্গে আন্দোলন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, বিএনপির গণবিরোধী অবস্থানের কারণে দলটি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেনি এবং বিএনপির কারণেই আওয়ামী লীগ ওই বছর ক্ষমতায় এসেছিল বলে তিনি মনে করেন।

মাদরাসাগুলোর ম্যানেজিং কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দলীয় লোকদের বসানোর উদ্দেশ্যেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার সরকারের গত ১৭ বছরের কার্যক্রমের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেন।

এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের এমপিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। অনির্বাচিত নারী এমপিদের নির্বাচিত এমপিদের ওপর দারোগাগিরি করতে বসানো হয়েছে। এটি ফ্যাসিবাদের পথ। আমরা অসংলগ্ন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাদের বেতন, গণভোটের রায়, সংবিধান সংস্কার, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং বিরোধী দলের বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ