ভারতের কলকাতায় হারিয়ে যাওয়া এক নাগরিকের মোবাইল ফোন চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। একই সঙ্গে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা থেকে অনলাইন প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর উত্তরা এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) নূরুল ইসলাম।
তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সৌরভ মন্ডলের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন গত ৩১ আগস্ট হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি টালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরবর্তী সময়ে এপিবিএন সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি বার্তা পাওয়া যায়। ওই বার্তার তথ্য যাচাই করে সাইবার সহায়তার মাধ্যমে ফোনটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম শহর থেকে সৌরভ মন্ডলের হারানো মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অনলাইন প্রতারণার আরেকটি ঘটনার তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত ডিআইজি নূরুল ইসলাম।
তিনি জানান, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮৮ হাজার ৮৯০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অনলাইন প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন ও ১৫টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
এপিবিএন জানায়, প্রতারণার শিকার ব্যক্তি প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করেছিলেন। পরে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এপিবিএনকে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযান পরিচালিত হয়।
এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটের অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।
নূরুল ইসলাম জানান, ওই মাসে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৮৬২টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি হ্যাক হওয়া তিনটি ফেসবুক আইডি, দুটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, তিনটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট এবং একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া বিকাশ ও নগদে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২ লাখ ২২ হাজার ২৮০ টাকা উদ্ধার করেছে এপিবিএন।
সোনা উদ্ধারের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে মোট ৪ দশমিক ৩৪৪ কেজি সোনার বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ কোটি ৫৩ লাখ ১৬ হাজার ১৭৫ টাকা।
সোনা উদ্ধারের ঘটনায় ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
একই সময়ে এপিবিএনের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত ৪৪০ কেজি সামুদ্রিক কাঁকড়া, ৮ কেজি ৫০০ গ্রাম তামা, ১ হাজার ৬২ কেজি কসমেটিকস এবং এলইডি মনিটরসহ জিপিএস ট্র্যাকার, ফ্যান ও সোলার প্যানেলের ব্যাটারি-সংক্রান্ত তিনটি সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৭৫০ ফুট কারেন্ট জাল, যার ওজন ১৫ কেজি, তিনটি মোটরসাইকেল, ২৭৭ পিস শাড়ি ও থ্রি-পিস, ৩০৯ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ২৬২ কেজি ফেব্রিক্স, দুই কেজি ওষুধ এবং ১০ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারি উদ্ধার করা হয়।
চোরাই মালামাল বিক্রির ৫ হাজার ২৫০ টাকা এবং পৃথকভাবে আরও ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা উদ্ধারের তথ্যও জানানো হয়েছে। তবে শেষোক্ত অর্থ উদ্ধারের বিস্তারিত প্রেক্ষাপট প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
নিখোঁজ ব্যক্তি উদ্ধারের বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে ছয়জন নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ২২ জন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করেছে এপিবিএন।
এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মামলা দায়ের এবং ১৫ জনকে গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়।
অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি জানান, বিভিন্ন ইউনিটের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতায় একটি ওয়ান শুটার গান, এক রাউন্ড গুলি এবং দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের তথ্য তুলে ধরে নূরুল ইসলাম জানান, সেপ্টেম্বর মাসে ৩৩ হাজার ৪৬৮ পিস ইয়াবা, ৬ দশমিক ০৫৮ কেজি গাঁজা, ১৭ দশমিক ২৫ লিটার মদ এবং ৬৭৩ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া মাদক বিক্রির ৫ হাজার ৩৯০ টাকাও উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের এবং ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এপিবিএনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হারানো মোবাইল উদ্ধার, সাইবার প্রতারণা প্রতিরোধ, নিখোঁজ ব্যক্তি উদ্ধার এবং অবৈধ পণ্য ও মাদক জব্দে সংস্থাটির বিভিন্ন ইউনিট অভিযান পরিচালনা করেছে।
মন্তব্যসমূহ