ঢাকা    সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সন্তানের জন্য হলেও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

সন্তানের জন্য হলেও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অন্তত নিজেদের সন্তানদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যদের কথা বাদ দিন, নিজের সন্তানের জন্য অন্তত একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই সৎ চেষ্টা করি; চেষ্টা করলে আমরা অবশ্যই পারব।’

নগরীর পরিবেশের সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অভিভাবকই চাইবেন না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক।

শিশুরা শুধু বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিদ্যালয়, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে তাদের যাতায়াত রয়েছে। তাই কেবল নিজ নিজ বাসস্থান বা আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখলেই চলবে না, পুরো নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

এ দায়িত্ব পালনে নাগরিকদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান।

ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতার সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিশাল সমস্যা একদিন বা সাতদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই যদি নিজেদের জায়গা থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করেন, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির ইতিবাচক রূপান্তর ঘটবে।’

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকাও অপরিচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সচেতনতার ফলে শহরটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে।

ঢাকার ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আত্মমূল্যায়নের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার সমালোচনা করতেই পারেন, সেটি আপনার অধিকার। কিন্তু দিনের শেষে নিজের ভেতরেও আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন—ভাবতে হবে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে ও শতভাগ চেষ্টা দিয়ে পালন করেছি।’

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান জানান, ওই ব্যবসায়ী তাঁকে বলেছেন, ঢাকার সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

এই অগ্রগতি ধরে রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভার আগে তিনি নগর ভবনের ‘জরুরি পরিচালন কেন্দ্র’ পরিদর্শন করেন।

সেখানে আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য, ভূমিকম্পসংক্রান্ত আপডেট, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত আধুনিক ওয়েবসাইট ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান।

ট্যাগ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


সন্তানের জন্য হলেও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য রাজধানী গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অন্তত নিজেদের সন্তানদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যদের কথা বাদ দিন, নিজের সন্তানের জন্য অন্তত একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই সৎ চেষ্টা করি; চেষ্টা করলে আমরা অবশ্যই পারব।’

নগরীর পরিবেশের সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অভিভাবকই চাইবেন না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক।

শিশুরা শুধু বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিদ্যালয়, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে তাদের যাতায়াত রয়েছে। তাই কেবল নিজ নিজ বাসস্থান বা আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখলেই চলবে না, পুরো নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে।

এ দায়িত্ব পালনে নাগরিকদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান।

ঢাকার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতার সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিশাল সমস্যা একদিন বা সাতদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই যদি নিজেদের জায়গা থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করেন, তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির ইতিবাচক রূপান্তর ঘটবে।’

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকাও অপরিচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সচেতনতার ফলে শহরটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে।

ঢাকার ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আত্মমূল্যায়নের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার সমালোচনা করতেই পারেন, সেটি আপনার অধিকার। কিন্তু দিনের শেষে নিজের ভেতরেও আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন—ভাবতে হবে আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে ও শতভাগ চেষ্টা দিয়ে পালন করেছি।’

রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান জানান, ওই ব্যবসায়ী তাঁকে বলেছেন, ঢাকার সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

এই অগ্রগতি ধরে রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভার আগে তিনি নগর ভবনের ‘জরুরি পরিচালন কেন্দ্র’ পরিদর্শন করেন।

সেখানে আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য, ভূমিকম্পসংক্রান্ত আপডেট, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত আধুনিক ওয়েবসাইট ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন।

এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ