হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টানা সাত দিনের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, মদ, সিগারেট, নিষিদ্ধ প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। একই সময়ে যাত্রীদের ব্যাগেজ সুবিধার নির্ধারিত সীমার বাইরে আনা পণ্য থেকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৫৬ টাকা শুল্ক-কর আদায় করা হয়েছে।
গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরে মোট ১১টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধ পণ্য আমদানি, ব্যাগেজ সুবিধার অপব্যবহার এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানগুলোতে প্রায় ৯৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ৫৮৯ লিটার মদ, ২ হাজার ৯২৩ কার্টন সিগারেট এবং ৩৫০টি ই-সিগারেট।
এ ছাড়া আমদানি নিষিদ্ধ ২৮৬ কেজি ত্বক ফর্সাকারী ক্রিম, ৩১৫ কেজি ওষুধ এবং ৯২টি মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি, বহন করা পণ্যের ধরন পরীক্ষা এবং আমদানি বিধিনিষেধ যাচাইয়ের মাধ্যমে এসব পণ্য শনাক্ত করা হয়। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ব্যাগেজ সুবিধা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক পণ্য আনা ও শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল-আমিন শেখ অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সাত দিনের অভিযানে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের শুল্কযোগ্য, বাণিজ্যিক ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সময়ে অতিরিক্ত ব্যাগেজ পণ্যের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক-কর আদায় করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী যাত্রীরা নির্দিষ্ট শর্তে ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য আনতে পারেন। তবে অনুমোদিত সীমার বাইরে শুল্কযোগ্য পণ্য বহন করলে নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ করতে হয়। এসব নিয়ম কার্যকর করার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের প্রবেশ ঠেকানোও অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ঢাকা কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ‘বিমানবন্দরকেন্দ্রিক তদারকি ও নজরদারি জোরদারের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, আমদানি-সংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়ন এবং সরকারি রাজস্বের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আনা ও শুল্ক-কর ফাঁকি প্রতিরোধে কাস্টমসের নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ আমদানি নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তাস্বার্থ রক্ষা এবং রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
মন্তব্যসমূহ