ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ ৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

গুজব ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে জনগণকে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

গুজব ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে জনগণকে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে সন্দেহ বা অসংগতি দেখা দিলে তা অবহেলা না করে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পার্বত্য জেলা পরিষদ অথবা বিএনপির স্থানীয় নেতাদের জানাতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মীর হেলাল বলেন, সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানে আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। তাঁর ভাষ্য, সমস্যা যেখানে রয়েছে, সেখানে সমাধানও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রংধনু জাতি’ গঠনের ভাবনার প্রতিফলন পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রংধনুর বিভিন্ন রং একসঙ্গে যেমন বর্ণিল সৌন্দর্য তৈরি করে, তেমনি এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনও গড়ে উঠেছে। সব নাগরিকের সমউন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করাই এই ভাবনার মূল লক্ষ্য।

ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি

দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ যাতে পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বলে জানান মীর হেলাল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। কঠিন চীবর দান, প্রবারণা পূর্ণিমাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্যও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি যা প্রতিশ্রুতি দেন, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি অর্জন করে দেখান। প্রধানমন্ত্রীর আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ এবং ‘রংধনু জাতি’ গড়ে তুলে বিশ্বদরবারে দেশের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা সরকারের মূল লক্ষ্য।

সভায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত, পিএসসি, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

সভা শেষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে জেলার ৪৭টি পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের হাতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি রাঙামাটির বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


গুজব ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে জনগণকে সতর্ক করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ছড়ানো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো ঘটনা চোখে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোনো বিষয়ে সন্দেহ বা অসংগতি দেখা দিলে তা অবহেলা না করে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পার্বত্য জেলা পরিষদ অথবা বিএনপির স্থানীয় নেতাদের জানাতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মীর হেলাল বলেন, সব সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। রাজনৈতিক সমস্যাগুলো সমাধানে আলোচনা চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে। তাঁর ভাষ্য, সমস্যা যেখানে রয়েছে, সেখানে সমাধানও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রংধনু জাতি’ গঠনের ভাবনার প্রতিফলন পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রংধনুর বিভিন্ন রং একসঙ্গে যেমন বর্ণিল সৌন্দর্য তৈরি করে, তেমনি এ অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনও গড়ে উঠেছে। সব নাগরিকের সমউন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করাই এই ভাবনার মূল লক্ষ্য।

ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি

দীর্ঘ সময় পর দেশের মানুষ যাতে পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বলে জানান মীর হেলাল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। কঠিন চীবর দান, প্রবারণা পূর্ণিমাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্যও বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি যা প্রতিশ্রুতি দেন, বাস্তবে তার চেয়েও বেশি অর্জন করে দেখান। প্রধানমন্ত্রীর আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ করে স্বনির্ভর বাংলাদেশ এবং ‘রংধনু জাতি’ গড়ে তুলে বিশ্বদরবারে দেশের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠা করা সরকারের মূল লক্ষ্য।

সভায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত, পিএসসি, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় অংশ নেন।

সভা শেষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে জেলার ৪৭টি পূজামণ্ডপের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের হাতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি রাঙামাটির বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ