রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের (৭২) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁকে অচেতন ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন মিয়া শুক্রবার রাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই দিন সকাল ১০টার দিকে ছোট মেয়েকে সাঁতার শেখাতে অফিসার্স ক্লাবে গিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন। মেয়েকে সুইমিংপুলের কাছে রেখে তিনি ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনটিতে প্রবেশ করেন।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের ধারণা, ভবনটির বেজমেন্ট-১-এর একটি ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে বেজমেন্ট-৩-এর মেঝেতে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন। অফিসার্স ক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে বারবার ওপরের দিকে ওঠা ও নিচে নামতে দেখা গেছে বলে জানান ওসি ইয়াছিন মিয়া। তাঁর ধারণা, ওই সময় তিনি হয়তো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি নিচে পড়ে যান।
এ ঘটনায় মোশাররফ হোসেনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের সদস্যরা ময়নাতদন্ত করাতে আগ্রহী নন। এ কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের জন্য মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোশাররফ হোসেন অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আগেই মারা গেছেন। বড় মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফেরার পর মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন ওসি। সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব রাজধানীর বনানীর ৫ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার দেওভুনা গ্রামে।
মন্তব্যসমূহ