বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে ১১তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর ১৬০ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে, ২০৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, শনিবার বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুরের সিঙ্গাপুর সিটি। শহরটির বায়ুমান স্কোর ২০১। ভারতের মুম্বাই ১৮৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ১৮৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ১৭৯ স্কোর নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইতালির মিলান।
গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়েছে। ধুলা, ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বস্তুকণার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বায়ুদূষণ বৃদ্ধির অন্যতম উদ্বেগের বিষয়।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচকের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ‘অনেক ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরের ক্ষেত্রে বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’। আর স্কোর ৩০১-এর বেশি হলে পরিস্থিতিকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বাংলাদেশে বায়ুমান সূচক নির্ধারণে দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো বস্তুকণা পিএম১০ ও পিএম২.৫, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণস্থলের ধুলার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যান্সার ও তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
মন্তব্যসমূহ