ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

হাওয়ায় উড়ে বেড়াল টেসলার নতুন গাড়ি

হাওয়ায় উড়ে বেড়াল টেসলার নতুন গাড়ি
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

রকেটের মতো শক্তিশালী কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করে মাটি ছেড়ে শূন্যে ভেসে ওঠার এক নজিরবিহীন প্রদর্শনী দেখিয়েছে মার্কিন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের ‘রোডস্টার’। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের বিশেষ পরীক্ষাকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আয়োজিত প্রদর্শনীতে স্পোর্টস কারটিকে অল্প সময়ের জন্য মাটি ছেড়ে ওপরে উঠতে এবং নিরাপদে অবতরণ করতে দেখা গেছে। খবর এনডিটিভির।

প্রদর্শনীতে দেখা যায়, উল্টোভাবে স্থাপিত একটি র‍্যাম্প বেয়ে দ্রুতগতিতে উঠে শূন্যে লাফিয়ে ওঠার চমকপ্রদ কৌশল প্রদর্শন করে গাড়িটি। এমনকি অন্য একটি গাড়ির ওপর দিয়েও এটিকে বাতাসে ভেসে পার হতে দেখা যায়। তবে গাড়িটির উড্ডয়নের প্রকৃত উচ্চতা, অনুভূমিক দূরত্ব কিংবা ঠিক কত সেকেন্ড এটি বাতাসে ভেসে ছিল—সে বিষয়ে কোনো যাচাইকৃত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি টেসলা। র‍্যাম্পে ওঠার সময় গাড়িটির অবস্থান ভূমি থেকে প্রায় ২১ মিটার উঁচুতে থাকলেও তা নিশ্চিত উড্ডয়ন-উচ্চতা নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পরীক্ষা ব্যক্তিগত সড়ক পরিবহনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিলেও গাড়িটির বাস্তবিক উড্ডয়ন সক্ষমতা, চূড়ান্ত মূল্য, নিরাপত্তা ও আইনি বৈধতা নিয়ে বহু প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রোডস্টারের এই বিশেষ ব্যবস্থায় স্পেসএক্সের সহায়তায় তৈরি উচ্চচাপের কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত রকেট জ্বালানি না পুড়িয়ে সংরক্ষিত গ্যাস দ্রুত নির্গত করে তাৎক্ষণিক প্রবল ধাক্কা তৈরি করে। তবে এটি নিয়মিত ও দীর্ঘ সময়ের আকাশযাত্রার জন্য কতটুকু কার্যকর, তা এখনো প্রমাণিত নয়।

তাছাড়া গাড়িটির থ্রাস্টার ব্যবহারের জন্য চালকের কোনো বিশেষ বিমান চালনা লাইসেন্স প্রয়োজন হবে কি না এবং আকাশে লাফ দেওয়ার কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রচলিত মোটরযান বীমা তা কভার করবে কি না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। রকেট সংস্করণটি সাধারণ পাবলিক সড়কে চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও এখনও পায়নি।

২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টারের ভিত্তি মূল্য ২ লাখ ডলার ঘোষণা করা হলেও নতুন প্রযুক্তির এই সংস্করণের চূড়ান্ত দাম নিশ্চিত করেনি টেসলা। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পারফরম্যান্স সংস্করণের বুকিং মানি ৫০ হাজার ডলার এবং থ্রাস্ট সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িটির আনুষ্ঠানিক উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আকাশে ক্ষণিকের জন্য লাফ দিতে পারলেই কোনো যান স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘উড়ন্ত গাড়ি’ বা বিকল্প পরিবহন হয়ে ওঠে না; এর জন্য সার্বিক নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী পরিচালন ব্যয় এবং কঠোর সড়ক ও বিমান পরিবহন নীতিমালার বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগ : স্পেসএক্স থ্রাস্টার টেসলা রোডস্টার

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


হাওয়ায় উড়ে বেড়াল টেসলার নতুন গাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রকেটের মতো শক্তিশালী কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করে মাটি ছেড়ে শূন্যে ভেসে ওঠার এক নজিরবিহীন প্রদর্শনী দেখিয়েছে মার্কিন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার পরবর্তী প্রজন্মের ‘রোডস্টার’। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের বিশেষ পরীক্ষাকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আয়োজিত প্রদর্শনীতে স্পোর্টস কারটিকে অল্প সময়ের জন্য মাটি ছেড়ে ওপরে উঠতে এবং নিরাপদে অবতরণ করতে দেখা গেছে। খবর এনডিটিভির।

প্রদর্শনীতে দেখা যায়, উল্টোভাবে স্থাপিত একটি র‍্যাম্প বেয়ে দ্রুতগতিতে উঠে শূন্যে লাফিয়ে ওঠার চমকপ্রদ কৌশল প্রদর্শন করে গাড়িটি। এমনকি অন্য একটি গাড়ির ওপর দিয়েও এটিকে বাতাসে ভেসে পার হতে দেখা যায়। তবে গাড়িটির উড্ডয়নের প্রকৃত উচ্চতা, অনুভূমিক দূরত্ব কিংবা ঠিক কত সেকেন্ড এটি বাতাসে ভেসে ছিল—সে বিষয়ে কোনো যাচাইকৃত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি টেসলা। র‍্যাম্পে ওঠার সময় গাড়িটির অবস্থান ভূমি থেকে প্রায় ২১ মিটার উঁচুতে থাকলেও তা নিশ্চিত উড্ডয়ন-উচ্চতা নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পরীক্ষা ব্যক্তিগত সড়ক পরিবহনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিলেও গাড়িটির বাস্তবিক উড্ডয়ন সক্ষমতা, চূড়ান্ত মূল্য, নিরাপত্তা ও আইনি বৈধতা নিয়ে বহু প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রোডস্টারের এই বিশেষ ব্যবস্থায় স্পেসএক্সের সহায়তায় তৈরি উচ্চচাপের কোল্ড-গ্যাস থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত রকেট জ্বালানি না পুড়িয়ে সংরক্ষিত গ্যাস দ্রুত নির্গত করে তাৎক্ষণিক প্রবল ধাক্কা তৈরি করে। তবে এটি নিয়মিত ও দীর্ঘ সময়ের আকাশযাত্রার জন্য কতটুকু কার্যকর, তা এখনো প্রমাণিত নয়।

তাছাড়া গাড়িটির থ্রাস্টার ব্যবহারের জন্য চালকের কোনো বিশেষ বিমান চালনা লাইসেন্স প্রয়োজন হবে কি না এবং আকাশে লাফ দেওয়ার কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রচলিত মোটরযান বীমা তা কভার করবে কি না—তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। রকেট সংস্করণটি সাধারণ পাবলিক সড়কে চলাচলের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনও এখনও পায়নি।

২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টারের ভিত্তি মূল্য ২ লাখ ডলার ঘোষণা করা হলেও নতুন প্রযুক্তির এই সংস্করণের চূড়ান্ত দাম নিশ্চিত করেনি টেসলা। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পারফরম্যান্স সংস্করণের বুকিং মানি ৫০ হাজার ডলার এবং থ্রাস্ট সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গাড়িটির আনুষ্ঠানিক উৎপাদন শুরুর সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সাল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে আকাশে ক্ষণিকের জন্য লাফ দিতে পারলেই কোনো যান স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘উড়ন্ত গাড়ি’ বা বিকল্প পরিবহন হয়ে ওঠে না; এর জন্য সার্বিক নিরাপত্তা, সাশ্রয়ী পরিচালন ব্যয় এবং কঠোর সড়ক ও বিমান পরিবহন নীতিমালার বৈজ্ঞানিক স্বীকৃতি জরুরি।

সূত্র: এনডিটিভি


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ