ঢাকা    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়া

এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়া
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাতকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে অনুভূত এই কম্পনের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে ভূমিকম্পের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়েছে বলে সংস্থাটির তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। ফলে এ ঘটনায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

এদিকে ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ধারণ ও আগাম সতর্কতা নিয়ে জাপানের একটি ঘটনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। এতে জাপানের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র কম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে সংস্থাটির নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ দশমিক ৯ মাত্রার পূর্বাভাসটি সঠিক হলে তা রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা হতো। তবে এই সংখ্যাটি ছিল ভুল আগাম সতর্কতার অংশ, প্রকৃত ভূমিকম্পের মাত্রা নয়।

কামচাতকা উপদ্বীপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন একটি বিস্তৃত ভূতাত্ত্বিক বলয়, যেখানে টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক নড়াচড়ার কারণে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কামচাতকা উপকূলের কাছে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায় বলে জানানো হয়।

কামচাতকা ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় সেখানে শক্তিশালী কম্পনের ঘটনা নতুন নয়। তবে সর্বশেষ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের প্রকৃত চিত্র জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।

ট্যাগ : রাশিয়া কামচাতকা ভূমিকম্প

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল রাশিয়া

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের কামচাতকা উপদ্বীপে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে অনুভূত এই কম্পনের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে ভূমিকম্পের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়েছে বলে সংস্থাটির তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কা নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। ফলে এ ঘটনায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।

এদিকে ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ধারণ ও আগাম সতর্কতা নিয়ে জাপানের একটি ঘটনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। এতে জাপানের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র কম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়। তবে সংস্থাটির নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ দশমিক ৯ মাত্রার পূর্বাভাসটি সঠিক হলে তা রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা হতো। তবে এই সংখ্যাটি ছিল ভুল আগাম সতর্কতার অংশ, প্রকৃত ভূমিকম্পের মাত্রা নয়।

কামচাতকা উপদ্বীপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এটি এমন একটি বিস্তৃত ভূতাত্ত্বিক বলয়, যেখানে টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক নড়াচড়ার কারণে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কামচাতকা উপকূলের কাছে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায় বলে জানানো হয়।

কামচাতকা ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় সেখানে শক্তিশালী কম্পনের ঘটনা নতুন নয়। তবে সর্বশেষ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের প্রকৃত চিত্র জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ