ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমানত সংগ্রহে পদোন্নতির নম্বর দেওয়ার উদ্যোগ

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমানত সংগ্রহে পদোন্নতির নম্বর দেওয়ার উদ্যোগ
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

অমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিপরীতে কর্মকর্তাদের পুরস্কার ও পদোন্নতিতে বিশেষ নম্বর দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সমন্বিত পদোন্নতি নীতিমালায় আগের এ ধরনের নির্দেশনা বাতিল করা হলেও তা বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জনতা ব্যাংক আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিপরীতে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নির্বাহীদের পুরস্কার এবং পদোন্নতিতে বিশেষ নম্বর দেওয়ার বিধান করে একটি সার্কুলার জারি করে। তবে একই বছরের আগস্টে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সমন্বিত পদোন্নতি নীতিমালা জারি করে। ওই নীতিমালায় পদোন্নতির মূল্যায়ন ও নম্বর বণ্টনের কাঠামো নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত বিভিন্ন মানদণ্ডে মোট ৯২ নম্বরের মূল্যায়ন হবে। এসপিও থেকে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট ৮ নম্বরও ওই ৯২ নম্বরের আনুপাতিক হারে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ কাঠামোর ফলে আমানত সংগ্রহের জন্য পৃথকভাবে বিশেষ নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নতুন আদেশ জারির পর এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের নিয়ম বা নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে। এ অবস্থায় জনতা ব্যাংকের আগের সার্কুলারের ভিত্তিতে পদোন্নতিতে বিশেষ নম্বর দেওয়ার উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ভিত্তিক পদোন্নতির জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ-সংক্রান্ত একটি মেমো উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ওই মেমোর মাধ্যমে আমানত সংগ্রহের বিপরীতে বিশেষ নম্বর দেওয়ার আগের বিধানকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে আমানত সংগ্রহের আর্থিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে। এর বিপরীতে ব্যাংকটির প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেগেটিভ ব্যালেন্স রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৫ সালে পদোন্নতিতে বিশেষ নম্বর পাওয়ার প্রত্যাশায় কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা আমানতের বড় অংশই উচ্চ সুদের আমানত। বিশেষ সার্কুলারের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ এসব আমানতের বিপরীতে ব্যাংকের ঋণের সুদহার কাছাকাছি হওয়ায় সুদের ব্যবধান বা স্প্রেড খুবই কম, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নেতিবাচক হয়ে পড়ছে।

ফলে পদোন্নতির নম্বর অর্জনের জন্য এমন আমানত সংগ্রহ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে উল্টো ক্ষতির কারণ হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে আমানত সংগ্রহে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, সেটিকে পদোন্নতির মূল্যায়নে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হলে তা কর্মদক্ষতার সঠিক মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।

তাদের মতে, এর ফলে একদিকে যেমন কম খরচে আমানত সংগ্রহ বা ব্যাংকের প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করা কর্মকর্তারা পিছিয়ে পড়তে পারেন, অন্যদিকে উচ্চ ব্যয়ে আমানত সংগ্রহকারীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। এতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগও তৈরি হতে পারে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদোন্নতি নীতিমালা জারির পর আগের সাংঘর্ষিক নির্দেশনা কার্যকর রাখার কোনো সুযোগ থাকলে সেটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। অন্যথায় বোর্ড সভায় এ ধরনের মেমো অনুমোদন করা হলে তা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, সে প্রশ্নেরও সমাধান জরুরি।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, বোর্ড সভায় মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি আইন ও বিধিবিধানের আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগ : জনতা ব্যাংক আমানত সংগ্রহ পদোন্নতি নীতিমালা

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে আমানত সংগ্রহে পদোন্নতির নম্বর দেওয়ার উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিপরীতে কর্মকর্তাদের পুরস্কার ও পদোন্নতিতে বিশেষ নম্বর দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সমন্বিত পদোন্নতি নীতিমালায় আগের এ ধরনের নির্দেশনা বাতিল করা হলেও তা বহাল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জনতা ব্যাংক আমানত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিপরীতে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও নির্বাহীদের পুরস্কার এবং পদোন্নতিতে বিশেষ নম্বর দেওয়ার বিধান করে একটি সার্কুলার জারি করে। তবে একই বছরের আগস্টে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য সমন্বিত পদোন্নতি নীতিমালা জারি করে। ওই নীতিমালায় পদোন্নতির মূল্যায়ন ও নম্বর বণ্টনের কাঠামো নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত বিভিন্ন মানদণ্ডে মোট ৯২ নম্বরের মূল্যায়ন হবে। এসপিও থেকে নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট ৮ নম্বরও ওই ৯২ নম্বরের আনুপাতিক হারে বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ কাঠামোর ফলে আমানত সংগ্রহের জন্য পৃথকভাবে বিশেষ নম্বর দেওয়ার সুযোগ নেই।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নতুন আদেশ জারির পর এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের নিয়ম বা নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে। এ অবস্থায় জনতা ব্যাংকের আগের সার্কুলারের ভিত্তিতে পদোন্নতিতে বিশেষ নম্বর দেওয়ার উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ভিত্তিক পদোন্নতির জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ-সংক্রান্ত একটি মেমো উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ওই মেমোর মাধ্যমে আমানত সংগ্রহের বিপরীতে বিশেষ নম্বর দেওয়ার আগের বিধানকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে আমানত সংগ্রহের আর্থিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের তথ্য অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে। এর বিপরীতে ব্যাংকটির প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেগেটিভ ব্যালেন্স রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২৫ সালে পদোন্নতিতে বিশেষ নম্বর পাওয়ার প্রত্যাশায় কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা আমানতের বড় অংশই উচ্চ সুদের আমানত। বিশেষ সার্কুলারের মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত সুদে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছে। অথচ এসব আমানতের বিপরীতে ব্যাংকের ঋণের সুদহার কাছাকাছি হওয়ায় সুদের ব্যবধান বা স্প্রেড খুবই কম, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা নেতিবাচক হয়ে পড়ছে।

ফলে পদোন্নতির নম্বর অর্জনের জন্য এমন আমানত সংগ্রহ ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিবর্তে উল্টো ক্ষতির কারণ হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে আমানত সংগ্রহে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, সেটিকে পদোন্নতির মূল্যায়নে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হলে তা কর্মদক্ষতার সঠিক মূল্যায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।

তাদের মতে, এর ফলে একদিকে যেমন কম খরচে আমানত সংগ্রহ বা ব্যাংকের প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করা কর্মকর্তারা পিছিয়ে পড়তে পারেন, অন্যদিকে উচ্চ ব্যয়ে আমানত সংগ্রহকারীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। এতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগও তৈরি হতে পারে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের আরও অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পদোন্নতি নীতিমালা জারির পর আগের সাংঘর্ষিক নির্দেশনা কার্যকর রাখার কোনো সুযোগ থাকলে সেটির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। অন্যথায় বোর্ড সভায় এ ধরনের মেমো অনুমোদন করা হলে তা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে কি না, সে প্রশ্নেরও সমাধান জরুরি।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, বোর্ড সভায় মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি আইন ও বিধিবিধানের আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ