ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

অপ্রতীম হত্যায় সিসিটিভির সূত্রে তিনজন আটক

অপ্রতীম হত্যায় সিসিটিভির সূত্রে তিনজন আটক
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

ফাহিমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি জানান, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তুহিনের বাড়ি কুমিল্লার সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। আনাস ও ফাহিমের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতীমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা যায়। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে মরদেহের সঙ্গে তার মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। 

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ : কুমিল্লা

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অপ্রতীম হত্যায় সিসিটিভির সূত্রে তিনজন আটক

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদ নামে আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তিনি জানান, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

ফাহিমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি জানান, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তুহিনের বাড়ি কুমিল্লার সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। আনাস ও ফাহিমের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় অপ্রতীমের সঙ্গে এক তরুণকে দেখা যায়। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতীম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত অপ্রতীমের মুঠোফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা যায়। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তবে মরদেহের সঙ্গে তার মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। 

অপ্রতীম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। 

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ