তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে প্রবল ঝড়ের মধ্যে অবতরণের চেষ্টা করতে গিয়ে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বারবার অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটিতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি শুরু হয় এবং একপর্যায়ে যাত্রীদের মনে হয় বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করেন যাত্রী মারিনা মাইস্কায়া। ভিডিওতে দেখা যায়, কেবিনের ভেতরে যাত্রীরা আতঙ্কে নিজেদের আসন শক্ত করে ধরে আছেন। চারদিকে চিৎকার শোনা যায়। এক যাত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মারা যাব।’
ইস্তাম্বুল থেকে তিউনিসগামী তুর্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে ৬৬১ ফ্লাইটটি তিউনিস-কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছানোর পর প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখে পড়ে।
মাইস্কায়ার ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রার বেশিরভাগ সময় স্বাভাবিক থাকলেও অবতরণের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তার দাবি, পাইলট তিনবার অবতরণের চেষ্টা করেন এবং প্রতিবারই বিমানটি প্রবল ঝাঁকুনির মধ্যে পড়ে।
তৃতীয়বার নামার সময় বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ে। সম্ভাব্য চতুর্থবারের চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে যাত্রীরা অন্য কোনো বিমানবন্দরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইটটি পরে তিউনিস-কার্থেজ বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণের এনফিধা-হাম্মামেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখানেই বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর মাইস্কায়া বলেন, নিরাপদে বেঁচে ফেরার জন্য তিনি তুর্কিশ এয়ারলাইনসের পাইলটদের কৃতিত্ব দেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঝড়ো আবহাওয়ায় বিমান পরিচালনা, বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ এবং যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি