যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে নতুন চাপ তৈরি করতে যাচ্ছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার। সেখানে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যতে স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অধিকার নিয়ে একটি যৌথ অবস্থান তুলে ধরা হবে।
বৈঠকে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল অংশ নিচ্ছেন। সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও আলোচনায় থাকবেন। তিন পক্ষ অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করার পরিকল্পনা করেছে।
এই বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ এবারই প্রথম স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের তিনটি ডিভলভড সরকারই স্বাধীনতাপন্থি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে রয়েছে। স্কটল্যান্ডে এসএনপি, ওয়েলসে প্লেইড কামরু এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সিন ফেইন ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছে।
স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বর্তমান যুক্তরাজ্য কাঠামোকে টেকসই নয় বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, তিন অঞ্চলে স্বাধীনতাপন্থি শক্তির উত্থান দেখাচ্ছে যে সাংবিধানিক পরিবর্তনের দাবি এখন আর উপেক্ষা করা যাবে না। কার্ডিফের বৈঠককে তিনি সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
স্কটল্যান্ডে দ্বিতীয় স্বাধীনতা গণভোটের দাবিও নতুন করে সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি বলেছেন, স্বাধীনতার পক্ষে স্পষ্ট জনসমর্থন তৈরি হলে ভবিষ্যতে গণভোটের প্রশ্ন বিবেচিত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে আরেকটি গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যদি যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে অবস্থান নেয় বলে মনে হয়, তাহলে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজনের পথ রয়েছে। সিন ফেইন দীর্ঘদিন ধরেই সেই সম্ভাবনার জন্য রাজনৈতিক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছে।
ওয়েলসও আরও আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা চাইছে। প্লেইড কামরু কর, ব্যয়, পুলিশ, রেল এবং ক্রাউন এস্টেটের রাজস্বের বড় অংশ ওয়েলস সরকারের হাতে দেওয়ার দাবি তুলছে। পাশাপাশি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।
এই বৈঠকের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আইরিশ পুনরেকত্রীকরণের পক্ষে মন্তব্য করেছেন। ডাবলিন সফরে তিনি বলেছেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে চান এবং সেটিকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখেন। তার মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের ভেতরে নতুন রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান এখনো সতর্ক। লন্ডনের বক্তব্য, স্কটল্যান্ড বা নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে কার্ডিফ বৈঠক তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাজ্যের ভাঙনের সূচনা না করলেও, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতার প্রশ্নকে ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রে আরও জোরালোভাবে ফিরিয়ে আনছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ