মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে ভবিষ্যতে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছে সরকার। সম্ভাব্য এই সুযোগ কাজে লাগাতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।
বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের দিনের কার্যক্রমে প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হলে সেখানে দক্ষ ও সাধারণ শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হতে পারে। এ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি এবং বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও মন্ত্রীও দেশটি সফর করেন। এর ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে। দেশটিতে গেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬২ জন বাংলাদেশি।
এ ছাড়া কাতারে ৮৯ হাজার ২৩ জন, সিঙ্গাপুরে ৭৫ হাজার ৪১ জন, মালদ্বীপে ৪২ হাজার ১৩০ জন এবং কুয়েতে ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান শ্রমবাজার ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্যসমূহ