তিন বছরেরও কম সময়ে প্রায় ৬০ লাখ আফগান শরণার্থী নিজ দেশে ফিরে গেছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দশকের অভিবাসন পরিস্থিতিতে এত বড় পরিসরে শরণার্থীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ঘটনা বিরল।
ইউএনএইচসিআর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক আফগানের প্রত্যাবর্তন সাম্প্রতিক ইতিহাসের বিবেচনায় একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন যেখান থেকেই হোক না কেন, তা অবশ্যই স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে।
ফিরে আসা আফগানদের বড় একটি অংশ প্রতিবেশী পাকিস্তান ও ইরান থেকে নিজ দেশে ফিরেছেন। তাদের পুনর্বাসনে আফগান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা, প্রয়োজনীয় অন্যান্য ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের জন্য ৭০ হাজারের বেশি জমির প্লট বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের ফিরে আসার তুলনায় এসব উদ্যোগ যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। অনেক প্রত্যাবর্তনকারী জানিয়েছেন, দেশে ফিরে তারা কর্মসংস্থানের সংকট, দারিদ্র্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের নানা অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ফিরে আসা মানুষদের সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গত জুনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে আফগান নাগরিকদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করার পর দেশটি থেকে ২৪ লাখের বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
অন্যদিকে, ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ইরান থেকেও প্রায় ২১ লাখ আফগান নাগরিক আফগানিস্তানে ফিরে গেছেন।
১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান আক্রমণের পর দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা চলতে থাকে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক আফগান নাগরিক প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের একটি বড় অংশকে আশ্রয় দিয়ে আসছে পাকিস্তান।
জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে এখনো ৭ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি নিবন্ধিত বা নথিবদ্ধ আফগান শরণার্থী রয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে অনিবন্ধিত আফগান শরণার্থীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
মন্তব্যসমূহ