রাশিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলার পর ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। একই সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার বার্তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছে কিয়েভ।
সাম্প্রতিক রুশ হামলায় কিয়েভের কাছে একটি গোলাবারুদ গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৮ জন নিহত ও ৫২ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর আশপাশের বহু বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটিকে ২০২৬ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা জানিয়েছেন, রুশ হামলা মোকাবিলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দ্রুতগতির ড্রোন ঠেকাতে নতুন প্রতিরোধ প্রযুক্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেন বর্তমানে বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির মুখে রয়েছে।
জেলেনস্কি একই সঙ্গে যুদ্ধের সমাধানে কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে যোগাযোগ পুনরায় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে সামরিক চাপও কমাচ্ছে না কিয়েভ। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো, বিমানঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার জবাবে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনায় আরও বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পশ্চিমা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ফলে একদিকে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে ইউক্রেন আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে কূটনৈতিক পথও সক্রিয় রাখছে। যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক দুই দিকই এখন একই সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে কিয়েভ।
মন্তব্যসমূহ