অধিকৃত পশ্চিম তীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ই-১ এলাকায় নতুন করে বসতি নির্মাণের ইসরায়েলি উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরায়েলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী ই-১ এলাকায় অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪টির জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ই-১ এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। আন্তর্জাতিক চাপের কারণে সেখানে বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা কয়েক দশক ধরে কার্যত স্থগিত ছিল। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি মিত্র দেশের আশঙ্কা, সেখানে বসতি গড়ে উঠলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত রাখার সম্ভাবনাও সংকুচিত হবে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ দেশ বলেছে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর বিধিনিষেধের কারণে ইতোমধ্যে গুরুতর অস্থিতিশীলতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বসতি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান দুর্বল করবে।
জাতিসংঘ মহাসচিবও ই-১ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, প্রকল্পটি একটি সংলগ্ন ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনার জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ তৈরি করছে।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ অবশ্য প্রকল্পটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পরিকল্পনাটি সামনে আনার সময় তিনি বলেছিলেন, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা কার্যত শেষ করে দেওয়া হচ্ছে।
দরপত্রে অংশ নেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে নির্বাচনের আগেই দরপত্র প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে গেলে পরবর্তী সরকারের জন্য পরিকল্পনাটি বাতিল করা আরও জটিল হতে পারে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয় ইসরায়েল। এরপর এসব এলাকায় বহু ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ এসব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে মনে করে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
ই-১ প্রকল্পের বিরোধীদের আশঙ্কা, সেখানে বড় আকারে বসতি সম্প্রসারণ হলে রামাল্লা, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমের মধ্যে সংযোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি ভৌগোলিকভাবে সংলগ্ন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও বড় ধরনের ধাক্কা খাবে।
মন্তব্যসমূহ