ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী তার বাড়ির উঠানে রান্নার কাজ করছিল। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত তাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, ভিডিও নির্মাণের অজুহাতে অভিযুক্ত আগে থেকেই ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করতেন। সামাজিক কারণে বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ না করলেও পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই সালিশে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয় এবং তাকে জরিমানা ও এলাকা ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে বৈঠকের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

এদিকে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেছেন, তার স্বামী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগের বিস্তারিত শোনেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

ট্যাগ : নেত্রকোনা রিপন মিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেত্রকোনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী তার বাড়ির উঠানে রান্নার কাজ করছিল। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত তাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের অভিযোগ, ভিডিও নির্মাণের অজুহাতে অভিযুক্ত আগে থেকেই ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় বিরক্ত করতেন। সামাজিক কারণে বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ না করলেও পরে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই সালিশে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয় এবং তাকে জরিমানা ও এলাকা ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে বৈঠকের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের মতো গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

এদিকে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে রিপন মিয়ার স্ত্রী চম্পা আক্তার দাবি করেছেন, তার স্বামী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

ভুক্তভোগীর মা জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়ের কাছ থেকে অভিযোগের বিস্তারিত শোনেন।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ