হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের মধ্যেই উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রোববার এসব হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর দক্ষিণে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হেলিকপ্টারের হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন। খান ইউনিসের পৃথক স্থানে তিনজন এবং গাজা সিটির পুরোনো এলাকায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। অন্য কয়েকটি এলাকায় চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা আটে পৌঁছায়।
এর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজার আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ১৫ দফার একটি রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। এতে হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র জমা, জিম্মিদের মুক্তি এবং নিরস্ত্রীকরণের অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন এখনো শুরু হয়নি। মূল বিরোধ তৈরি হয়েছে কোন পদক্ষেপটি আগে নেওয়া হবে, তা নিয়ে। হামাসের অবস্থান হলো, ইসরায়েল সামরিক অভিযান বন্ধ করে আগের চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার করলে তারা অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করবে। অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, যাচাইযোগ্য নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া সেনা প্রত্যাহার এগোবে না।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন রূপরেখা নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি। তবে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত ফাতাহর সাবেক নেতা মোহাম্মদ দাহলান বলেছেন, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার গাজায় হামলা বন্ধের লক্ষ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তার মতে, আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে ইসরায়েলকে চলমান সামরিক হামলা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
নতুন রূপরেখাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও গাজায় হামলা বন্ধ না হওয়ায় পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। উভয় পক্ষের শর্তের ব্যবধান না কমলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া কঠিন হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স