ঢাকা    বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

এক সপ্তাহ পর নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল

এক সপ্তাহ পর নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের বোর্দো শহরের কাছে পাইন বনে ছড়িয়ে পড়া বিশাল দাবানল এক সপ্তাহের বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনের বিস্তার আপাতত থামানো গেলেও বিভিন্ন স্থানে এখনও ধোঁয়া ও মাটির নিচে আগুন জ্বলছে। সেগুলো পুরোপুরি নেভাতে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা।

গিরোন্দ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনের কারণে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন।

ভয়াবহ আগুনে অন্তত ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। দাবানলটি এতটাই তীব্র ছিল যে, এটি নিজের বাতাস ও বজ্রঝড়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ফলে নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং দমকল বাহিনীর অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, আগুন এখন আর বড় পরিসরে এগোচ্ছে না। তবে ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং দমকল ও জরুরি সেবা বিভাগ এখনও ঘটনাস্থলে সক্রিয় রয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাস আবারও আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সে দেখা সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটি। তবে ১৯৪৯ সালের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়েছিল। সে কারণে বর্তমান দাবানলকে সরাসরি ১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করার চেয়ে ‘অন্যতম বৃহৎ’ বলা অধিক নির্ভুল।

তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুকিয়ে যাওয়া গাছপালা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এমন চরম তাপমাত্রা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্য ব্যবস্থা বা ইএফএফআইএসের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরে ফ্রান্সে ৯১ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়েছে। অন্যদিকে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর। তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও সময়ের পার্থক্যের কারণে দুই হিসাবের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ফ্রান্স জলবায়ু পরিবর্তন

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এক সপ্তাহ পর নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের ভয়াবহ দাবানল

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের বোর্দো শহরের কাছে পাইন বনে ছড়িয়ে পড়া বিশাল দাবানল এক সপ্তাহের বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগুনের বিস্তার আপাতত থামানো গেলেও বিভিন্ন স্থানে এখনও ধোঁয়া ও মাটির নিচে আগুন জ্বলছে। সেগুলো পুরোপুরি নেভাতে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা।

গিরোন্দ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। আগুনের কারণে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে শুরু করেছেন।

ভয়াবহ আগুনে অন্তত ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। দাবানলটি এতটাই তীব্র ছিল যে, এটি নিজের বাতাস ও বজ্রঝড়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ফলে নতুন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং দমকল বাহিনীর অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, আগুন এখন আর বড় পরিসরে এগোচ্ছে না। তবে ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়নি এবং দমকল ও জরুরি সেবা বিভাগ এখনও ঘটনাস্থলে সক্রিয় রয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাস আবারও আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সে দেখা সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটি। তবে ১৯৪৯ সালের অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়েছিল। সে কারণে বর্তমান দাবানলকে সরাসরি ১৯৪৯ সালের পর সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করার চেয়ে ‘অন্যতম বৃহৎ’ বলা অধিক নির্ভুল।

তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুকিয়ে যাওয়া গাছপালা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এমন চরম তাপমাত্রা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্য ব্যবস্থা বা ইএফএফআইএসের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরে ফ্রান্সে ৯১ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা আগুনে পুড়েছে। অন্যদিকে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর। তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও সময়ের পার্থক্যের কারণে দুই হিসাবের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ