বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) একটি প্রস্তাব দিয়েছে যাতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হোক।
জামায়াতের এই প্রস্তাবটি সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। বছরের ১৮ জুলাই জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, তারা মনে করেন নিষিদ্ধ দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থাকা উচিত নয় এবং অন্যান্য কিছু প্রস্তাবও তারা কমিশনের সামনে উপস্থাপন করেছে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে পতিত হওয়ার ফলে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। পরে ভোট কমিশন তাদের নিবন্ধন স্থগিত করার ফলে তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
সরকার আশার কথা দিয়েছে আগামী অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনা হবে, যেখানে দলীয় প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন হওয়ার কথা। এর ফলে স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খসড়া আচরণবিধি ইসি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়ে মতামত চেয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াত তাদের প্রস্তাবগুলো জমা দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল সুবিধার ব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়েও প্রস্তাব they've দিয়েছে।
জামায়াত সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী সদস্যের সরাসরি নির্বাচনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর পাশাপাশি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করারও প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
সূত্র: ইত্তেফাক
মন্তব্যসমূহ