ইসরায়েলের ২৬তম নেসেট নির্বাচনের চূড়ান্ত সমীকরণ শেষে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন ‘ইয়াশার’ পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই সরকার গঠনের ম্যান্ডেট প্রদান করতে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেসেটের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে ৬৭ জন নির্বাচিত আইনপ্রণেতা আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে সুস্পষ্ট সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এর বিপরীতে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন এসেছে মাত্র ৪৬ জন এমপির। ২০১৫ সালের পর এবারই প্রথম কোনো মনোনীত প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে নেসেটে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনপ্রণেতার এমন একক সমর্থন নিশ্চিত করলেন আইজেনকোট।
কাগজে-কলমে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও জোট গঠনের অভ্যন্তরীণ পথ এখনো বেশ সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং। আইজেনকোটকে সমর্থন দেওয়া ৬৭ এমপির মধ্যে ৪৮ জন এসেছেন চারটি মূল ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দল থেকে এবং বাকি ১৯ জন এসেছেন দুটি প্রধান ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আরব দল (রাম ও জয়েন্ট লিস্ট) থেকে। ইসরায়েলের রাজনীতিতে ইহুদি দলগুলোর সিংহভাগই ঐতিহাসিকভাবে আরব দলগুলোর সঙ্গে একই মন্ত্রিসভায় সরাসরি সরকার পরিচালনায় অনীহা দেখিয়ে আসছে।
তবে এই অচলাবস্থা নিরসনে নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রখর কট্টর ধর্মনিরপেক্ষ দল ‘ইসরাইল বেইতেনু’-এর প্রধান আভিগডোর লিবারম্যান। চরম ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর সাথে জোটে না বসার দীর্ঘদিনের কড়া অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নেতানিয়াহুর কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটাতে তিনি আল্ট্রা-অর্থোডক্স ধর্মীয় দল ‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ (ইউটিজে)-এর সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত। এবার কট্টর ইহুদিদের সামরিক নিয়োগ ইস্যুতে মতবিরোধের জেরে ইউটিজে শেষ মুহূর্তে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকে, যা আইজেনকোটের জন্য সরকার গঠনের পথ অভাবনীয়ভাবে সহজ করে তুলেছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ হিসেবে আগামী ১০ নভেম্বর নেসেটের নবনির্বাচিত সদস্যদের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই বর্তমান স্পিকার তথা নেতানিয়াহুর দল ‘লিকুদ’-এর শীর্ষ নেতাকে অপসারণ করে বিরোধীদের মধ্য থেকে নতুন স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আরব দল রামসহ বিরোধী জোটের দলগুলো আগাম ভোটাভুটির আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে।
এদিকে রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টকে ‘দুর্যোগের জোট’ আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তবে বিরোধী দলগুলো অবিলম্বে এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা নতুন জোটে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। সব মিলিয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নির্ধারণ হতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ভবিষ্যৎ ক্ষমতার মসনদ।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল














মন্তব্যসমূহ