দেশটির অন্যতম শীর্ষ ডিজিটাল আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘উয়েনো ব্যাংক’ (Ueno Bank)-এ ভয়াবহ ধস ও আর্থিক কেলেঙ্কারির জেরে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনাকে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) করে গৃহবন্দি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাত দিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) দেশটির সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে খোদ প্রেসিডেন্টের নিজ দলসহ প্রায় সব দলের সিনেটররা তাঁর অভিশংসনের পক্ষে রায় দেন। সিনেটে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে সরাসরি গৃহবন্দি করে।
উয়েনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও কার্যক্রমের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনার সরাসরি ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা ছিল। চলমান তীব্র জনরোষের মুখে গত বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেছিলেন। তবে সিনেট তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে সরাসরি অভিশংসনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এর ফলে একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে সাংবিধানিক যেসব আইনি দায়মুক্তি ও সুবিধা তাঁর পাওয়ার কথা ছিল, তা সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায়।
জানা গেছে, উয়েনো ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণকারী মূল মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে সান্তিয়াগো পেনার ব্যক্তিগত শেয়ার ছিল। যদিও তিনি দাবি করেছেন যে গত বছরই তিনি সেই শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন এবং ব্যাংকের ভেতরের কোনো আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।
তবে অভিযোগের তদন্তে দেশটির প্রধান প্রসিকিউটর সিলভিয়া মার্গারিতা গঞ্জালেজ নিশ্চিত করেছেন, শনিবার সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার, পদাধিকারের প্রভাব খাটানো, চরম বিশ্বাসভঙ্গ এবং রাষ্ট্রীয় ও গ্রাহক তহবিলের অবৈধ অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
প্রেসিডেন্ট পেনার নাটকীয় পতনের পরপরই প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ ও দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি রাজপথে থাকা বিক্ষুব্ধ জনগণকে আশ্বস্ত করে প্রতিশ্রুতি দেন যে, ব্যাংক ধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ সাধারণ গ্রাহককে ন্যায়বিচার প্রদান করা হবে এবং তাদের পাওনা পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করবে সরকার।
উল্লেখ্য, উয়েনো ব্যাংকে বিপর্যয়কর আর্থিক সংকট তৈরির পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর থেকেই ব্যাংকটির ডিজিটাল লেনদেন ও অর্থ উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৩০ লাখ সাধারণ গ্রাহক তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় ও সরকারি পেনশনের অর্থ তুলতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন। এর প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানী আসুনসিওনসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং অবিলম্বে তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।














মন্তব্যসমূহ