সরকারি এক সফরে আজ খুলনা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে তিনি প্রথমে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং সেখানে নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সম্পন্ন করে সড়কপথে খুলনা পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সফরে প্রধানমন্ত্রীর মোংলায় দুটি এবং খুলনায় একটি মূল আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া তিনি ঐতিহাসিক বাগেরহাট জেলা সদরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত সুফি সাধক হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। মোংলা ও বাগেরহাটের কার্যক্রম শেষ করে তিনি সড়কপথে খুলনা মহানগরে প্রবেশ করবেন।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের জাতীয় আসর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে সমগ্র খুলনা অঞ্চলে নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। সফরকে কেন্দ্র করে পুরো মহানগরীকে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় এনে নান্দনিক রূপ দেওয়া হয়েছে। জেলা স্টেডিয়াম এবং এর আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের বর্ণিল ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর শিববাড়ী মোড় থেকে রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান ফটক পর্যন্ত সড়কের পাশের দেয়ালে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে চমৎকার সব গ্রাফিতি ও দেয়ালচিত্র। এসব শিল্পকর্মে স্থান পেয়েছে খুলনার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সুন্দরবন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিগাথা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি।
সরেজমিনে দেখা গেছে এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত—প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর নামে যত্রতত্র নির্মিত সব অস্থায়ী তোরণ ও বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত ব্যানার-ফেস্টুনও সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়েছে। সরকারপ্রধানের কোনো সফরে ব্যানার-তোরণবিহীন এমন পরিচ্ছন্ন নগরীর দৃশ্য অতীতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি পুরো খুলনা মহানগরীতে নিশ্চিত করা হয়েছে সর্বোচ্চ স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে মহানগরীকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণ প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ও মর্যাদাপূর্ণ অভ্যর্থনা জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।














মন্তব্যসমূহ