ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

'জিহাদি' ট্যাগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প, সেই এল-সাঈদ এখন মিশিগানের প্রথম মুসলিম সিনেটর

'জিহাদি' ট্যাগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প, সেই এল-সাঈদ এখন মিশিগানের প্রথম মুসলিম সিনেটর
ছবি : সংগৃহীত
ফলো করুন

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে অনন্য এক মাইলফলক স্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ড. আব্দুল এল-সাঈদ। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে তিনি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থনপুষ্ট রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আব্দুল এল-সাঈদের এই নিরঙ্কুশ জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের জন্য এক বিরাট সাংগঠনিক ও নীতিগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনরায় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আসনটি রিপাবলিকানদের দখলে চলে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছিল; তবে এল-সাঈদের এই অভাবনীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হলো।

চূড়ান্ত ভোট গণনা অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সাঈদ পেয়েছেন মোট ২২ লাখ ৩৬ হাজার ৮২৪ ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ১৯ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বীকে মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিনেটের সদস্যপদ নিশ্চিত করেন এল-সাঈদ।

পেশাগত জীবনে ৪২ বছর বয়সী আব্দুল এল-সাঈদ একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক ও সফল জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং মার্কিন রাজনীতিতে বড় বড় করপোরেট সিন্ডিকেটের অশুভ প্রভাব বন্ধের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর নির্বাচনি ইশতেহারের মূল অঙ্গীকার।

বিপরীতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ৬৩ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা মাইক রজার্স ছিলেন একজন সাবেক প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ও সাবেক এফবিআই এজেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আশীর্বাদ নিয়ে মাঠে নামা রজার্স পুরো প্রচারণা জুড়ে এল-সাঈদকে কট্টরপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের বিতর্কিত চেষ্টা করেন এবং তাঁকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র মেরুকরণ তৈরির অপচেষ্টা চালান। এমনকি তিনি এল-সাঈদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সংশ্লিষ্টতার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুললে এল-সাঈদ তাৎক্ষণিকভাবে তা দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়াও গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় এল-সাঈদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইহুদি ভোটারদের ক্ষুব্ধ করার কৌশল নিয়েছিলেন রজার্স। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের গভীর উদ্বেগ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোটারদের ক্ষোভের কাছে রজার্সের সব রাজনৈতিক কৌশল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ডোনাল্ড ট্রাম্প এল-সাঈদ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


'জিহাদি' ট্যাগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প, সেই এল-সাঈদ এখন মিশিগানের প্রথম মুসলিম সিনেটর

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে অনন্য এক মাইলফলক স্থাপন করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী ড. আব্দুল এল-সাঈদ। মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে তিনি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর সমর্থনপুষ্ট রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই ঐতিহাসিক বিজয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আব্দুল এল-সাঈদের এই নিরঙ্কুশ জয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল শিবিরের জন্য এক বিরাট সাংগঠনিক ও নীতিগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিশিগানের বিদায়ী ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনরায় নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আসনটি রিপাবলিকানদের দখলে চলে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছিল; তবে এল-সাঈদের এই অভাবনীয় সাফল্যের মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ আসনটি ধরে রাখতে সক্ষম হলো।

চূড়ান্ত ভোট গণনা অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সাঈদ পেয়েছেন মোট ২২ লাখ ৩৬ হাজার ৮২৪ ভোট। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ১৯ লাখ ৯২ হাজার ১৩৩ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বীকে মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিনেটের সদস্যপদ নিশ্চিত করেন এল-সাঈদ।

পেশাগত জীবনে ৪২ বছর বয়সী আব্দুল এল-সাঈদ একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক ও সফল জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং মার্কিন রাজনীতিতে বড় বড় করপোরেট সিন্ডিকেটের অশুভ প্রভাব বন্ধের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি সবার জন্য সরকারি অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা বা ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল তাঁর নির্বাচনি ইশতেহারের মূল অঙ্গীকার।

বিপরীতে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ৬৩ বছর বয়সী রিপাবলিকান নেতা মাইক রজার্স ছিলেন একজন সাবেক প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান ও সাবেক এফবিআই এজেন্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আশীর্বাদ নিয়ে মাঠে নামা রজার্স পুরো প্রচারণা জুড়ে এল-সাঈদকে কট্টরপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের বিতর্কিত চেষ্টা করেন এবং তাঁকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দিয়ে তীব্র মেরুকরণ তৈরির অপচেষ্টা চালান। এমনকি তিনি এল-সাঈদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সংশ্লিষ্টতার সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুললে এল-সাঈদ তাৎক্ষণিকভাবে তা দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। এছাড়াও গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রকাশ্য বিরোধিতা করায় এল-সাঈদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ইহুদি ভোটারদের ক্ষুব্ধ করার কৌশল নিয়েছিলেন রজার্স। তবে শেষ পর্যন্ত অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের গভীর উদ্বেগ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভোটারদের ক্ষোভের কাছে রজার্সের সব রাজনৈতিক কৌশল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ