শিল্পাঞ্চলে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২০ থেকে ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকেই কারখানাগুলোতে আজকের দিনের জন্য এ ছুটি কার্যকর করা হয়। তবে সতর্কতামূলক ছুটি ঘোষণা করা হলেও সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, প্রতিদিনের মতো সকালবেলা শ্রমিকেরা নিজ নিজ কর্মস্থলে কাজে যোগ দিতে যান। তবে এর মধ্যেই কিছু কারখানার শ্রমিক নাওজোর, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জড়ো হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা চালান। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তৎপর হয়ে ধাওয়া দিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারখানার নিরাপত্তা রক্ষা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২০ থেকে ২৫টি কারখানা কর্তৃপক্ষ আজকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, কারখানা ছুটি ঘোষণার পর কিছু শ্রমিক বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে ঘোরাফেরা করলেও মহাসড়কে কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেওয়া হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি শিল্প এলাকায় পুলিশের অতিরিক্ত টহল ও সতর্ক অবস্থান জোরদার করা হয়েছে। ফলে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের কোনো উত্তাপ দেখা যায়নি এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে তীব্র অসন্তোষ ও সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় মহাসড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ, বিজিবি সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এছাড়া পুলিশের গাড়িসহ বিভিন্ন যানবাহন ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
মন্তব্যসমূহ