নির্বাচনের দিন ব্যালট পুড়িয়ে বিশৃঙ্খলার ছক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আ.লীগ

- আপডেট: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 4
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে সারা দেশে যখন ব্যালট পেপারসহ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহন ও সংরক্ষণের কাজ শেষ ধাপে, তখনই নতুন করে নাশকতার আশঙ্কাজনক তথ্য সামনে এসেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনি সরঞ্জাম সংরক্ষিত স্থাপনাগুলোতে রাতের আঁধারে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, পেট্রল বোমা নিক্ষেপ এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ব্যালট পেপার পুড়িয়ে ভোটগ্রহণ ব্যাহত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এ ধরনের হামলা চালাতে আলাদা ‘হিট স্কোয়াড’ গঠনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং কিছু স্থানে গ্রেনেড ও আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের আলামতও নজরে এসেছে। এসব তথ্য পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। নিরাপত্তা সংস্থার পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চপর্যায় এবং নির্বাচন কমিশনে আগাম তথ্য পাঠিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের সুপারিশও করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র বলছে, জেলা পর্যায় থেকে উপজেলা পর্যায়ে ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে এগুলো অস্থায়ী স্টোররুমে রাখা হচ্ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব স্থানের আশপাশে রেকি চালানো, পাহারার সময়সূচি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার দুর্বলতা চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, বিশেষ করে রাতের সময়কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করাও পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। ‘ভোট বাতিল’, ‘সরঞ্জাম পুড়ে গেছে’—এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ গুদাম ও স্টোররুমে অতিরিক্ত পাহারা বসিয়েছে, টহল ও চেকপোস্ট বাড়িয়েছে এবং নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহনে নিরাপত্তা এসকর্ট জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো নাশকতার চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। পাশাপাশি সাইবার নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে, যাতে অনলাইনে উসকানিমূলক পোস্ট বা গুজব দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নির্বাচন কমিশন বলছে, ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য, কোনো ষড়যন্ত্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে থামাতে পারবে না। সন্দেহজনক তৎপরতা দেখা গেলে দ্রুত পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।



























